
মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরসহ ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেসরকারি ফেনী ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ফেনী পুলিশ লাইন-সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের মূল উদ্বেগের কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করতে না পারলে ফেনী বিশ্ববিদ্যালয় ‘রেড লিস্ট’ বা লাল তালিকাভুক্ত হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এমনটা ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিটি ছাড়াও শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসসেবা চালু, গ্রন্থাগার আধুনিকায়ন ও পর্যাপ্ত বই সংযোজন, আইন বিভাগের জন্য মুট কোর্ট রুম (কাল্পনিক আদালত) প্রতিষ্ঠা, ছাত্র সংসদ গঠন, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধকরণ, রেজিস্ট্রেশন ফি-তে আরোপিত জরিমানা বাতিল এবং বিভিন্ন বিভাগে পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ।
আন্দোলনরত আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আদনান আরাফাত বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা বারবার দাবি জানাচ্ছি, কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ ইউজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে না পারলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আসবে। এ জন্য আমরা বাধ্য হয়েছি শাটডাউন করতে।’
শিক্ষার্থীদের এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে আরেক শিক্ষার্থী ইমন শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করব।’
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ফেনী ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য পূর্বে নির্ধারিত জমি নিয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন জমি কিনেছে এবং সেখানে ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।’ তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানকে ক্যাম্পাসে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি আগামী শুক্রবার আসবেন বলে কথা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা শাটডাউন ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ্য, ফেনী ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা গত বছরের ১৩ আগস্ট প্রথমবার ১৫ দফা দাবি নিয়ে সরব হন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশ্বাস পেলেও তার বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা একই বছরের ২১ অক্টোবর ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা পুনরায় আন্দোলন করেন।