
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফেনী জেলায় কোরবানির পশুর ব্যাপক সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় খামারিরা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (২১শে মে, ২০২৬) পর্যন্ত জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ৯২৭টি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এবার জেলায় মোট পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২ হাজার ৫২৫টি। এর বিপরীতে স্থানীয় ৫ হাজার ৪০৭ জন খামারি মোট ৯০ হাজার ৪৫২টি গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন।
পশুর সংখ্যার দিক থেকে গরুর আধিক্য সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে কোরবানির জন্য ৭১ হাজার ৫৬৯টি গরু, ১৩ হাজার ২২৯টি ছাগল, ১ হাজার ৭৩৫টি মহিষ এবং ৩ হাজার ১৯৯টি ভেড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে পশু লালন-পালনে ২৪ হাজার ৩৬০টি পশু নিয়ে প্রথম স্থানে অবস্থান করছে ছাগলনাইয়া উপজেলা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফেনী সদরে ২২ হাজার ৪১৫টি, সোনাগাজীতে ১৮ হাজার ৩৭৫টি, দাগনভূঞায় ৮ হাজার ৪৭৫টি, ফুলগাজীতে ৮ হাজার ৪৪৯টি এবং পরশুরামে ৮ হাজার ৩৭৮টি গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন খামারিরা।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে এবার জেলাজুড়ে ১৫টি স্থায়ী এবং ১১৪টি অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১২৯টি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ফেনী সদর ও পৌরসভায় ৪২টি, সোনাগাজীতে ২১টি, দাগনভূঞায় ১৯টি, ছাগলনাইয়ায় ১৫টি, পরশুরামে ৮টি এবং ফুলগাজীতে ৭টি হাট বসবে। হাটে আনা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৩৭টি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে বিদেশি গরু প্রবেশ না করলে খামারিরা লাভবান হবেন, অন্যথায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন।