
বিশেষ প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় তরিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আটক করার অভিযোগ উঠেছে চুরির মামলার আসামী মো. মাসুদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলের দিকে কেন্দুয়া পৌর মার্কেটের নিজ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে আটক হন মো. তরিকুল ইসলাম।
জানা যায়, উপজেলার ৯নং নওপাড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের দোতলা বাড়ির মো. রহিমুল্লার বড় ছেলে মো. মাসুদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন চুরি, চিনতাই, মাদক সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত থেকে অপরাধ করে আসছে। চুরির দায়ে গ্রেফতারকৃত মাসুদ অনেক পূর্ব হতেই ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলামকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। সম্প্রতি একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা অভিযোগ তুলে পুলিশ দিয়ে তরিকুলকে আটক করানোর অভিযোগ উঠেছে যা রীতিমতো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি সহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তরিকুল ইসলাম একজন পরিশ্রমী ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা আরও জানান চোর মাসুদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ থাকলেও সৈরা ক্ষমতার কারণে সে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছিল। তারা এ ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে নিরীহ মানুষকে হয়রানির শিকার করতে না হয়।
এদিকে চুরির দায়ে গ্রেফতার মাসুদের পিতা রহিমুল্লাহ বলেন- আমার ছেলের কোন ধরনের বাজে অভ্যাস ও নেশাখোর ছিল না, আমার ছেলেকে মরহুম হাদিস মিয়ার মেজো ও ছোট ছেলে এসব শিখিয়েছে, তাদের কারণেই আমার ছেলের আজ এমন পরিণতি। আমার ছেলে নেশার টাকা যোগার করতে না পেরেই তাদের ঘরের মালামাল চুরি করেছে, মাসুদের পিতার এই মৌখিক অভিযোগের বিষয়টি জানতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাদিস মিয়ার মেজো ছেলের মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন উত্তর দেননি।
উল্লেখ্য, মাসুদ গত ১১ এপ্রিল সকাল ৮ টার দিকে দুর্গাপুর গ্রামের নিজ দোতলা বাড়ি কেন্দুয়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শরীরচর্চা শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাদিস মিয়ার বাড়িতে চুরি করার সময় জনতার হাতে আটক হয়। পরবর্তীতে মরহুম হাদিস মিয়ার বড় ছেলে আরিফুল ইসলাম খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে গ্রামবাসীর সাথে আলোচনা করে কেন্দুয়া থানাকে বিষয়টি অবহিত করলে সাংবাদিক ও পুলিশ ঘটনার সততা পায়, এবং তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে মাসুদের বিরুদ্ধে চুরির লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন এবং আদালতে মাসুদ স্বীকার করে সে চুরি করা মালামালগুলো ব্যবসায়ী তরিকুলের নিকট বিক্রি করেছিল। পুলিশ আদালতে মাসুদের রিমান্ড দাবী করলে আদালত মাসুদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বর্তমানে মাসুদ কেন্দুয়া থানায় রিমান্ডধীন রয়েছে। পরবর্তী ১৫ এপ্রিল বিকেলের দিকে গ্রেফতারকৃত মাসুদের তথ্য অনুযায়ী ব্যবসায়ী তরিকুলকে নিজের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ সাংবাদিকদের জানান, আদালতের মাধ্যমে মাসুদকে রিমান্ডে আনা হয়েছে, তার জবানবন্দি অনুযায়ী তরিকুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ীকে আটক করে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।