
মো: রফিকুল ইসলাম,নড়াইল।
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের হেচলাগাতি গ্রামের মোঃ নুলু মিয়ার ছেলে নিজেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে দাবি করা তরিকুল ইসলাম ও অপরজন জাহিদুল ইসলাম সম্পর্কে তারা আপন ভাই।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়,চমকদার বিজ্ঞাপন ও সাইনবোর্ড দিয়ে তরিকুল ও জাহিদুল ফরিদপুর জেলার জনবহুল দুই থানায় ভুইফোঁড় প্রতিষ্ঠান খুলে বসে আছে। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্ন করলে তারা সাংবাদিকদের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। এছাড়াও খবর নিয়ে জানা গেছে এ ধরনের জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা বা উচ্চতর প্রশিক্ষণের কোনোটিই তাদের নেই।
তারপরও নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত জনগণকে অপচিকিৎসা দিয়ে নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি করছে। গোপন চিকিৎসা বিধায় অনেকে লোকলজ্জার ভয়ে কোনো অভিযোগ জানানো বা প্রতিবাদ করা থেকে বিরত থাকে বিধায় অভিযুক্তরা দিনে দিনে আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রশাসনের নাকের ডগায় তরিকুল ও জাহিদুল দীর্ঘদিন ধরে অপচিকিৎসা চালালেও স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। সঠিক তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করে তাদের এই ধরনের অপচিকিৎসালয় উচ্ছেদ ও তাদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান স্থানীয় ভুক্তভোগী’রা।
এদিক,নাকের মধ্যে পলিপাস,পাইলস,অর্শ,গেজ,
বাউশি,ভগন্দার ও হাঁপানিসহ বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার নামে চলছে ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ। আর এই ভয়ংকর ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন গ্রামের সহজ-সরল, নিরীহ জনগণ। এছাড়া ভুল চিকিৎসার কারণে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণসহ প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকেই।
জানা যায়,অভিযুক্ত তরিকুল ও জাহিদুল পার্শ্ববর্তী জেলা ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানাধীন ওয়াপদা মোড়ের হাসান মঞ্জিলের পূর্ব পার্শ্বের ৩য় তলা ভবনের সেবা সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড নিউ সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গোপনভাবে “পাইলস্ ও পলিপাস চিকিৎসালয়,বোয়ালমারী” নামে প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে প্রতি বৃহস্পতির সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত,নাকের মধ্যে পলিপাস,
পাইলস,অর্শ,গেজ,বাউশি,ভগন্দার ও হাঁপানিসহ বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের অপচিকিৎসা করছে।
এছাড়াও একই জেলার সালথা থানাধীন সালথা বাজারের হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং সেখানে প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুই ভাই অপচিকিৎসা প্রদান করে আসছে এবং বিভিন্ন রোগীর নিকট থেকে ফোন কল পেয়ে তারা নড়াইল জেলার একাধিক স্থানে নিয়মিতভাবে রোগী দেখছে বলেও জানা গেছে। ফলে নড়াইল এলাকার জনগণের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ফরিদপুর জেলার সালথা থানার আটগ্রামের জলিল মোল্যার মেয়ে মিতু খানম অভিযোগ করে বলেন,তরিকুল ও জাহিদুল কোনো ডাক্তারই নয়। তারা নাম মাত্র ভুইফোঁড় প্রতিষ্ঠান খুলে এলাকার সহজ-সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। আমি পাইলসের সমস্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন পূর্বে সরল বিশ্বাসে তরিকুলের নিকট গেলে সে এসিড প্রয়োগ করে আমার মলদ্বার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে।
এছাড়াও নারী সেবিকা দিয়ে আমার চিকিৎসা করানোর কথা থাকলেও সে নিজেই আমার অপচিকিৎসা করেছে। ফলে বর্তমানে আমি শারীরিকভাবে নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছি। এ ধরনের প্রতারকদের কঠিন শাস্তিরও দাবি জানান। এদেকে,নায়ীটিক এ্যাসিড ও এ্যাসিড কার্বোলিক সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তরিকুল ও জাহিদুল এ্যাসিড দিয়ে নাকের পলিপাস ও পাইলস পুড়িয়ে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে তরিকুল মুঠোফোনে বলেন,আমার চিকিৎসালয়ে আমার মহিলা সেবিকা ছিলো,যদি রোগী মিতু খানম অভিযোগ করে থাকে তাহলে আসতে বলেন,আবার চিকিৎসা দেয়া হবে,ভুল হতে পারে বলেও স্বীকার করেন।