
শাহীন সুলতানা।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করতে উৎসবমুখর পরিবেশে জমে উঠেছিল নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ভৈরব শাখার আয়োজিত বর্ণাঢ্য বৈশাখী অনুষ্ঠান। ঐতিহ্য, আনন্দ আর সম্প্রীতির মিলনমেলায় সাজানো এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) নিসচা কার্যালয়ে।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি—পান্তা-ইলিশ, খৈ-মুড়ি, বাতাসা, মোয়া ও নানা রকম মিঠাইয়ের সমাহার। পাশাপাশি বিকেলে মেঘনা নদীতে মনোমুগ্ধকর নৌভ্রমণ অনুষ্ঠানকে এনে দেয় ভিন্নমাত্রা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিসচা ভৈরব শাখার সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য মোঃ আলাল উদ্দিনের সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইওয়ে পুলিশের সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে. এম. মামুনুর রশীদ এবং ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন কুমার চৌধুরী।
আয়োজনকে ঘিরে সদস্যদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। ২০০ টাকা ফি প্রদান করে নিসচা পরিবারের প্রায় ৭০ জন সদস্য রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন, যা এ আয়োজনের প্রতি তাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠান সফল করতে সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। কার্যকরী সদস্য ফরহাদ আহমেদ নিজ উদ্যোগে মাটির পেয়ালা সংগ্রহ করেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম জনি ইলিশ মাছের ব্যবস্থা করেন।
খাবার আয়োজন ও পরিবেশনায় সহযোগিতা করেন প্রকাশনা সম্পাদক জেসমিন আক্তার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফাতেমা বেগম দীপালী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফারজানা রহমান সুধা, কার্যকরী সদস্য তাসলিমা খাতুন লিছা ও ফারিয়া ইসলামসহ আরও অনেকে।
অর্থ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন (বিএসসি) খই, মুড়ি, মোয়া ও বাতাসাসহ বৈশাখী উপকরণ সরবরাহে দায়িত্ব পালন করেন। কার্যালয়কে বৈশাখী সাজে সজ্জিত করেন মোঃ আলাল উদ্দিন, আর ডেকোরেশনের দায়িত্বে ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন সুজন।
বিকেলে সদস্যদের আপ্যায়ন ও নৌভ্রমণের আয়োজন করেন সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ইমরান হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক রাকিব হোসাইন এবং প্রচার সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের আলোচনা সভার শুরুতে অতিথিদের ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী গামছা পরিয়ে বরণ করা হয়। বক্তারা নিরাপদ সড়ক চাই-এর কার্যক্রমের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ ও নিসচার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেষ বিকেলে মেঘনা নদীতে নৌভ্রমণের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে, যা অংশগ্রহণকারীদের মনে নববর্ষের নতুন উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য জাগিয়ে তোলে।