স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়ে ফিরছে লাশ: শোকাতুর রাণীশংকৈল

জসীমউদ্দিন ইতি ঠাকুরগাঁও।

 

জীবিকার তাগিদে সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার তরুণ সোহান (২৪)। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেখানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে এখন দিশেহারা স্বজনরা। শেষবারের মতো সোহানের মুখ দেখতে সরকারের কাছে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন তার শোকাতুর বাবা-মা।

গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের অদূরে কেতলেহং এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে। তিনি সেখানে একটি মুদি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন মাগরিবের সময় হঠাৎ এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে দোকানের মালিক মোমবাতি আনতে পেছনের দিকে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা দোকানে প্রবেশ করে সোহানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এটি ছিনতাই নাকি পূর্বপরিকল্পিত হামলা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সোহানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন বাবা দুলাল হোসেন ও মা সাহিনুর বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলেন, ছেলের ভবিষ্যতের জন্য অনেক কষ্ট করে পাঠিয়েছিলাম। এখন তাকে আর জীবিত পাব না জানি, কিন্তু তার মরদেহটা যেন দেশে এনে নিজের হাতে দাফন করতে পারি—সরকারের কাছে আমাদের এই একটাই চাওয়া।

নিহতের শিক্ষক ফরহাদ হোসেন ও স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইসরাইল হোসেন সোহানকে অত্যন্ত ভদ্র ও পরিশ্রমী ছেলে হিসেবে উল্লেখ করে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মরদেহ দ্রুত হস্তান্তরের দাবি জানান।

এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী দুঃখ প্রকাশ করে জানান, মরদেহ ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সরাসরি থানার আওতাভুক্ত নয়।

অন্যদিকে, রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম জানান, “বিদেশ থেকে মরদেহ আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুমতির প্রয়োজন হয়। নিহতের পরিবারকে দ্রুত সেখানে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতে গিয়ে বিদেশের মাটিতে ঝরে গেল এক প্রাণ। এখন প্রবাসী সোহানের মরদেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পুরো চিকনমাটি গ্রাম।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ