
রাসেল আহমেদ,খুলনা
খুলনা জেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান কাটার আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। তবে মাঠের ফসল ঘরে তোলার আগেই নানা দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, কৃষি শ্রমিকের উচ্চ মজুরি, জ্বালানি সংকট এবং বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় বোরো আবাদ হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৬ হাজার হেক্টর, যা থেকে প্রায় ৩০০ হেক্টর কম আবাদ হয়েছে। তবে এত কষ্টের পরও শেষ সময়ে এসে আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৈশাখের শুরুতেই ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে দাবদাহও তীব্র হতে পারে। ইতোমধ্যে জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে, যা পাকা ধানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সারের কোনো ঘাটতি না থাকলেও ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। অনেক এলাকায় এপ্রিলের শেষ দিকে ডিজেল পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে কৃষি শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আগে যেখানে দৈনিক ৬০০ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত, সেখানে এখন গুনতে হচ্ছে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।
এর মধ্যে গত বুধবার রাতে খুলনায় ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে পাইকগাছার গদাইপুর, কয়রার অন্তাবুনিয়া, ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া, শাহপুর ও চুকনগর এলাকায় বোরো ক্ষেতে পানি জমে গেছে, যা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে টানা দুই-তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাত হলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
গত বছর শিলাবৃষ্টিতে তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা এবার বোরো চাষে ঝুঁকেছেন। এখন আবার আবহাওয়ার কারণে তারা আতঙ্কে আছেন।”
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, জেলায় সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলায়। সেখানে ২২ হাজার ১৩২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
তিনি বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব।”
সব মিলিয়ে, মৌসুমের শুরু থেকে নানা প্রতিকূলতা সামলে মাঠে ফসল দাঁড় করালেও শেষ মুহূর্তের প্রাকৃতিক ঝুঁকি আর বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তায় খুলনার বোরো চাষিরা।
এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা—আবহাওয়া অনুকূলে থাকুক, যেন সোনালি ধান নিরাপদে ঘরে তুলতে পারেন।