
জসীমউদ্দীন ইতি ঠাকুরগাঁও।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ আব্দুস সালামের সাম্প্রতিক ঘোষণা—”সারের ডিলার দুই নাম্বারী করলে সরাসরি লাইসেন্স বাতিল”—তৃণমূলের কৃষকদের মাঝে যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনি অসাধু সিন্ডিকেটের জন্য এটি একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। কৃষিপ্রধান এই জনপদে সারের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি হাজার হাজার কৃষকের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। এমপি মহোদয়ের এই অনমনীয় অবস্থানকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
ঠাকুরগাঁও তথা উত্তরের জেলাগুলোর অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির ওপর। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, ভরা মৌসুমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ডিলাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা করেন না, আবার ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। যখনই সংকটের কথা ওঠে, ডিলারদের পক্ষ থেকে নানা অজুহাত দাঁড় করানো হয়। অথচ পর্দার আড়ালে চলে মজুতদারি আর কালোবাজারি। এমতাবস্থায়, “দুই নাম্বারী করলে লাইসেন্স বাতিল”—এই কঠোর নির্দেশটি অসাধু ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।
তবে কেবল ঘোষণা বা হুঁশিয়ারিই কি যথেষ্ট?
বিগত দিনগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, অনেক সময় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ডিলাররা প্রশাসনিক নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান। তাই এমপি মহোদয়ের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ সফল করতে হলে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে:
তৃণমূল পর্যায়ে তদারকি: মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত বাজার ও গোডাউন মনিটরিং করতে হবে। ডিলাররা কৃষকদের সঠিক রসিদ দিচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন: সাধারণ কৃষক যদি ডিলারের হাতে হেনস্তা হন বা বেশি দাম দিতে বাধ্য হন, তবে তিনি তাৎক্ষণিক কার কাছে অভিযোগ জানাবেন? একটি সুনির্দিষ্ট হটলাইন বা অভিযোগ বক্স প্রতিটি ইউনিয়নে থাকা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচার: কোনো ডিলার যদি অনিয়ম করেন, তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তার লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশটি কার্যকর করতে হবে। এখানে বিন্দুমাত্র শিথিলতা পুরো উদ্যোগকে ভেস্তে দিতে পারে।
পরিশেষে আমরা বলতে চাই, কৃষকের পেটে লাথি মেরে কোনো সিন্ডিকেট যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। এমপি ডাঃ আব্দুস সালাম যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন, তার সঠিক বাস্তবায়নই হবে কৃষকের আসল মুক্তি। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিক সমাজ—সবাই মিলে এই সারের বাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত রাখলে তবেই ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি সমৃদ্ধ হবে।
আমরা আশা করি, এই নির্দেশ কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মাঠ পর্যায়ে এর কঠোর প্রয়োগ ঘটবে।