
ফেনী প্রতিনিধি।
ফেনীর সোনাগাজীর একটি খামার থেকে চুরি হওয়া ১৬টি গরুর মধ্যে ১১টি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা ও চাঁদপুর—এই চার জেলার বিভিন্ন স্থানে টানা অভিযান চালিয়ে এসব গবাদিপশু উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সোহাগ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) চাঁদপুরের কচুয়া ও কুমিল্লার চৌয়ারা এলাকা থেকে চুরি যাওয়া গরুর বড় অংশটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ কুমিল্লার বরুড়া থানার আকুসাইর এলাকা থেকে প্রথমে একটি গরু উদ্ধারসহ একজনকে আটক করা হয়। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১২ জানুয়ারি ২০২৬ সোনাগাজী মডেল থানার মতিগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে আরও একটি গরু উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার চৌয়ারা গরু বাজার থেকে একটি গরু উদ্ধারসহ সোহাগকে আটক করা হয়। আটক সোহাগ চাঁদপুরের কচুয়া থানার সানন্দকড়া গ্রামের ইদ্রিসের ছেলে। পরবর্তীতে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে কচুয়ার সানন্দকড়া এলাকার লতিফ সাহেবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৮টি চোরাই গরু উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোর রাতে। ওইদিন ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে চর দরবেশ ইউনিয়নের পূর্ব চর সাহাভিকারী এলাকার মো. শাহাআলমের খামার থেকে অজ্ঞাতনামা অপরাধীরা ১৬টি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খামারি বাদী হয়ে ২ জানুয়ারি ২০২৬ সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলা (মামলা নং-০৫, ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড) দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের সন্ধান পায়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, এই চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এর আগে ৪ জনকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ আটক করেছিল। গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার একটি মামলায় (নম্বর ৫(১)২৬) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ ওই চারজনকে এই গরু চুরির মামলায় আটক দেখানোর (Show Arrest) জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করেছে। চুরি যাওয়া অবশিষ্ট ৫টি গরু উদ্ধার এবং চোরচক্রের বাকি সদস্যদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।