
মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা।।
যশোরের মণিরামপুরে হঠাৎ করেই কুকুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে কুকুরের কামড়ে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ২০ জন।
এ দিকে প্রায় দুইমাস যাবত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্যাবিস ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। ফলে বাধ্য হয়ে ভূক্তভোগীরা বাজারের ফার্মেসী থেকে উচ্চ মূল্যে ভ্যাকসিন কিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পাড়দীয়া গ্রামের ভূক্তভোগী ইজিবাইক চালক মাহাবুবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে রাজগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ডিসপেন্সারী মোড়ে যাত্রী উঠানোর সময় একটি ক্ষ্যাপা কুকুর আচমকা তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে ডানপায়ে কামড়িয়ে রক্তাক্ত করে। এসময় ওপর যাত্রী হাসানকেও কামড়িয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়।
শুধু মাহাবুবুর অথবা হাসান নয়, একই দিনে কুকুরের কামড়ে আহত হয় ঝাঁপা গ্রামের রামপদ, মনোহরপুর গ্রামের খলিলুর রহমান, নাছিমা বেগম, দূর্গাপুরের ফরিদা বেগম, রাফি ছাড়াও মশ্বিমগর, গালদা, রাজগঞ্জ, কাশিপুর, ঘুঘুরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত: ৫০ জনকে কুকুরের কামড়িয়ে আহত করে।
এর মধ্যে জুড়ানপুর গ্রামের সিনিয়া আকতার, রিফাত হোসেন, গালদা গ্রামের হোসেন আল, গোপালপুর গ্রামের আবু বক্কর, কাশিপুর গ্রামের বিষ্ণু দাস, সুমাইয়া খাতুন, ঘুঘুরাইল গ্রামের আব্দুস সামাদ, ঝাপা গ্রামের রামপদ দাস, শেখপাড়া খানপুর গ্রামের আমিনুর রহমান, মোবারকপুর গ্রামের তামিম হাসান, গালদা গ্রামের হোসেন আলী, রোহিতা গ্রামের আশিকুর রহমানসহ ২০ জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অনুপ কুমার বসু।
এদিকে প্রায় দুইমাস যাবত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্যাবিস ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। ফলে বাধ্য হয়ে ভূক্তভোগীরা বাজারের ফার্মেসী থেকে উচ্চ মূল্যে ভ্যাকসিন কিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভূক্তভোগী আব্দুস সামাদ, আশিকুর রহমানসহ অনেকেই জানায় হাসপাাতলে ভ্যাকসিন না থাকায় তারা বাজারের ফার্মেসী থেকে ১৩’শ থেকে ১৬’শ টাকা হারে প্রতিষেধক কিনে পুশ করিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল জানান গত দুইমাস যাবত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়েছে।
নতুন করে সরবরাহের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রæত সময়ের মধ্যে সরবরাহ পাওয়া যাবে।