
খুলনা সংবাদদাতা
খুলনার রূপসা উপজেলায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে সারাদেশের সঙ্গে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রথম দিনেই বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলার শিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নম্বর ৪৮১)-এ এদিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রের প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয় ৪২ নম্বর শিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
কেন্দ্র সচিব ও শিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আহসান উল্লাহ জানান, এ কেন্দ্রে মোট ৩২৮ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩২৩ জন। অসুস্থতা ও অন্যান্য কারণে ৫ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এতে উপস্থিতির হার দাঁড়ায় ৯৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সকল পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়। প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুই অংশের মাঝে কোনো বিরতি ছিল না।
পরীক্ষা কেন্দ্রের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করেন শিয়ালী ক্যাম্পের এএসআই আজমীর ও তার নেতৃত্বাধীন পুলিশ সদস্যরা। সকাল থেকেই কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় দেহ তল্লাশি এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।
এএসআই আজমীর বলেন, “পরীক্ষা শুরুর আগ থেকেই আমরা সতর্ক অবস্থানে ছিলাম। কোথাও কোনো অনিয়ম বা নকলের ঘটনা ঘটেনি। প্রথম দিনের পরীক্ষা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।”
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তারা কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নুন্দু। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারে, সে জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।”
কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ভিড় থাকলেও কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। সার্বিকভাবে কেন্দ্র এলাকায় ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা প্রশাসন আশা করছে, বাকি পরীক্ষাগুলোও একইভাবে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হবে।