
এস এম আবু কাউসার, বিশেষ প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রতিবেশীদের কথিত ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের পিতা ও পুত্রের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গৃহবধূকে আগুন দেওয়ার ‘সাজানো’ ঘটনার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার পূর্বাচলের মোল্লা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আহত ইদ্রিস আলী ও তার স্ত্রী শাহিদা আক্তার অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের প্ররোচনায় তাদের ছেলে রবিউল মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে আসছে।
তাদের দাবি, বেইলারটেক এলাকায় তারা দুই ছেলে কাউসার ও রবিউলকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিলেন। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজনের প্রভাবে রবিউল নেশায় জড়িয়ে পড়ে এবং প্রায়ই বাবা-মায়ের ওপর হামলা ও মারধর করতো।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১১ মার্চ টাকার জন্য বিরোধের জেরে রবিউল তার বাবা ইদ্রিস আলীকে টেটা দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। এ সময় ধস্তাধস্তিতে রবিউল নিজেও আহত হয়। পরে দুজনকেই রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে আবারও বেপরোয়া আচরণ শুরু করে রবিউল। অভিযোগ রয়েছে, নেশার টাকা না পেলে নিয়মিত মা-বাবাকে হুমকি ও নির্যাতন চালাতো সে। এ ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে মা শাহিদা আক্তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ রবিউলকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
এদিকে, নতুন করে রবিউলের স্ত্রী লাভলী বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, তিনি নিজ ঘরে আগুন লাগিয়ে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেন এবং ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চান।
আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১২ এপ্রিল ভাড়াটে লোকজন দিয়ে ছোট ছেলে কাউসার ও তার মাকে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে শাহিদা আক্তারকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইদ্রিস আলী বলেন, “নিজ সন্তানের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে আমরা দিশেহারা। এখন নিজেদের বাড়িতেও নিরাপদ নই।”
শাহিদা আক্তার বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা নাটক সাজানো হচ্ছে। আমরা এই ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
পরিবারটির অভিযোগ, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িছাড়া অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।