নড়াইলে প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীকে জেল, প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

মো: রফিকুল ইসলাম,নড়াইল।

 

নড়াইল সদর উপজেলার পাজারখালি বাজারে এক প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধ ‘ভিত্তিহীন অভিযোগে’ ভ্রাম্যমাণ আদালত পাঁচ দিনের জেল দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল থেকে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধন করেছেন। পাজারখালি বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ,বুধবার বিকেলে (১৫ অক্টোবর) বিনা শুনানিতে প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী খন্দকার মিরনকে পাঁচ দিনের কারাদন্ড দেয়া হয়। খন্দকার মিরন আলীর বাড়ি হবখালী গ্রামে।

এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী’রা বণিক সমিতির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বাজারের সব দোকান বন্ধ রেখে মানববন্ধন করেন। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। “মানববন্ধনে প্রত্যক্ষদর্শী হবখালী ইউপি সদস্য ইব্রাহিম হোসেন লিটু জানান,ভ্রাম্যান আদালত যখন অভিযান আসেন তখন আমি ওইখানেই দাঁড়ানো ছিলাম। আমার চোখের সামনে মিরনের গ্রেফতারের ঘটনাটি ঘটে।

তিনি আরও জানান,আছেরের নামাজের সময় শেষে হয়ে যাচ্ছে দেখে দোকানদার মিরন দ্রুত নামাজ আদায়ের জন্য দোকানে তার এক শিশুকর্মচারী রেখে পাশে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যান মিরন। সেই সময় দেখলাম ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম দোকানে প্রবেশ করলে দোকানে বসে থাকা শিশুটি ভয়ে দৌড়ে বের হয়ে গেল।

দোকানে ম্যাজিষ্ট্রেট আসার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক মিরণ দোকানে ফিরে আসেন। তখন তাকে কোন জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে পাঁচদিনের জেল দিয়ে হাজতে পাঠানো হয়।”

“পাজারখালী বাজার বনিক সমিতির সভাপতি শাহাদৎ বিশ্বাস বলেন, “ মিরন আলী একজন প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী। বাজারে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলাম,তাকে কোন জিজ্ঞাসাবাদ না করে গ্রেফতার করা হয়েছে। এঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও মিরনের নি:শর্ত মুক্তি চাই। এর ব্যতয় হলে আমরা কঠিনতম কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবো। ”

খন্দকার মিরণ আলীর স্ত্রী শরিফা জানান, “আমার স্বামী একজন সৎ ব্যবসায়ী। দোকানে কখনও কোনো অবৈধ পণ্য থাকে না। তিনি নিয়ম মেনে ব্যবসা করেন। আমার স্বামীকে বিনা অপরাধে তাকে গ্রেফতার করে জেল দেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি কর্তৃপক্ষের নিকট তার স্বামীকে দ্রুত বেকসুর খালাসের দাবি করেন।”
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খন্দকার মঞ্জুরুল সাইদ বাবু,
সমাজসেবক সোয়েব মিনাসহ আরো অনেকে।

“জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সূত্র থেকে জানাযায়, খন্দকার মিরনকে দন্ডবিধির ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় পাঁচ দিনের জেল দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম বা তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর বিধি নিষেধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট জানান।”

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ