কুড়িল-রূপগঞ্জ সড়কে বিআরটিসির আর্টিকুলেটেড বাস যাত্রীসেবায় নতুন যুগের সূচনা

এস এম আবু কাউসার, বিশেষ প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগরীর কুড়িল থেকে রূপগঞ্জের গাউছিয়া রুটে বিআরটিসির আর্টিকুলেটেড বাস যাত্রীসেবায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জনসাধারণের সাশ্রয়ী ভাড়ায় নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং নির্ধারিত সময় মেনে চলাচলের জন্য এই বাসগুলো দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রূপগঞ্জের একমাত্র গণপরিবহন বিআরটিসি। ভুলতা থেকে কুড়িল পর্যন্ত নিয়মিত যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই গণপরিবহনটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে যাত্রা শুরু করে। এতে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা এবং অল্প টাকায় সকলে ঢাকা সহ আশেপাশের এলাকায় যাতায়াত করতে পারে। যেখানে কুড়িল থেকে গাউছিয়া সিনএজি ভাড়া ১০০ টাকা সেখানে বিআরটিসি বাসের ভাড়া ৬০ টাকা করে। আরো আশ্চর্যের বিষয় এই যে, সকাল ৬ টা থেকে শুরু করে রাত্র ৯ টা পর্যন্ত বিআরটিসি বাসে যাত্রী পরিবহন অব্যাহত থাকে কিন্তু রাত ৯ টার পর শুরু হয় সিএনজি চালকদের দূর্বীত্তায়ন, ১০০ টাকার ভাড়া প্রকার ভেধে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

সরেজমিন ঘুরে আরো দেখা গেছে, নিয়মিত অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও গার্মেন্টস কর্মীরা বিআরটিসির এই গণপরিবহনকে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য বলছেন। ঘনঘন ট্রিপ, নির্ধারিত সময়মতো বাস ছেড়ে যাওয়া এবং বাসে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা – এসব কারণে যাত্রীরা এই বাসকে ‘মধ্যবিত্তের আশ্রয়’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

 

বিআরটিসি সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সাথে তিনি বলেন, আমরা জানি বিআরটিসি নিয়ে অতীতে নানা অভিযোগ ছিল।  তবে এখন সময় বদলে গেছে। আমরা যাত্রীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছি। ভাড়া কাঠামো পুনর্বিবেচনা, কার্ডধারী ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য হাফপাশ, কাউন্টার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপত্তা জোরদার করছি।”

তিনি আরও বলেন,  রূপগঞ্জের মতো এলাকা যেখানে প্রাইভেট পরিবহন নেই, সেখানে বিআরটিসি-ই একমাত্র নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন। আমরা চাই কেউ যেন অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, এবং সব পক্ষকে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়।”

যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি বলেন, যাত্রী অভিযোগ গ্রহণের জন্য হেল্পলাইন ও অনলাইন ফর্ম চালু, নির্ধারিত কাউন্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পুলিশ সহায়তায় নিরাপত্তা, বাস চালকদের প্রশিক্ষণ এবং নির্ধারিত সময়ে ট্রিপ নিশ্চিত করতে তদারকি টিম।

বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ আরো জানান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে বিরোধ নয়, বরং সমন্বয়ের মাধ্যমে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। তবে অটোরিকশা যদি অনুমোদিত কাউন্টারের বাইরে যাত্রী ওঠানামা করে কিংবা বাস সেবায় ব্যাঘাত ঘটায়, তা রোধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে এসব পদক্ষেপ যেন হয় সম্মানজনক ও আইনি কাঠামোর মধ্যেই – সে দিকেই নজর দিয়েছে প্রশাসন।

এ ব্যাপারে নিয়মিত যাত্রী সাবিনা আক্তার, একজন শিক্ষার্থী বলেন,“আগে ঝুঁকি নিয়ে সিএনজি বা লেগুনা ধরতাম। এখন সকাল-বিকেল বিআরটিসি চলে — নির্ভর করা যায়।

একই মত দেন গার্মেন্ট কর্মী রাজু মিয়া,

“সিট পাই, ভাড়া আগে ভাগে জানি, কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে গাড়ীতে উঠি এতে কন্ডাক্টরদের সাথেও কোন সমস্যা হয় না। এক গন্তব্য থেকে উঠে আবার নিধারিত গন্তব্যে নামা যায় তাই বিআরটিসিতেই যাতায়াত করি।

বিআরটিসির কিছু সমস্যা নিয়ে কথা হয় গাজীপুর ডিপো ম্যানেজার খাইরুল হক উজ্জল এর সাথে তিনি

বলেন, যদিও অভিযোগ ও চ্যালেঞ্জ আছে, তারপরও বিআরটিসি তার সেবার পরিধি বাড়াতে ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ গড়তে আন্তরিক। রূপগঞ্জের মতো এলাকায় সরকারি বাস সেবা কেবল একটি যান নয় — এটি জনগণের জন্য চলাফেরার একটি অধিকার। তাই অভিযোগ সমাধানের পথে রেখে বিআরটিসিকে আরও কার্যকর করার জন্য যাত্রী, চালক, সিএনজি মালিক ও প্রশাসনের সম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ