
সংবাদ প্রতিবেদন : মোঃ মিজানুর রহমান, নিত্যবয়ান সংবাদদাতা, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করা খরস্রোতা খোয়াই নদীর ওপর নির্মিত জরাজীর্ণ বেইলি সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিকল্প না থাকায় সোমবার (৩১শে আগস্ট, ২০২৬) সরেজমিনে দেখা যায়, চরম ঝুঁকির মধ্যেও প্রতিদিন এই সরু সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছেন দুই পারের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ।
১৯৯৪ সালে নির্মিত এই বেইলি সেতুটির মেয়াদকাল ১২ বছর নির্ধারিত থাকলেও গত দুই দশক ধরে এটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নদীর পূর্ব পারের চারটি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ এবং পশ্চিম পারের ছয়টি ইউনিয়নের তিন লাখ মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এই সেতু। বর্তমানে কাঠামোর বিভিন্ন অংশের লোহার পাত আলগা হয়ে বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে এবং মরিচা ধরে পুরো কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভারী যান চলাচলের সময় পুরো সেতুটি কাঁপতে থাকে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙালেও চালকরা তা মানছেন না। অবাধে বালুভর্তি ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচল করায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সেতুর এই বেহাল দশার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ফারুক তালুকদার জানান, যানজট ও দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক পরিবহন বিকল্প পথ ব্যবহার করায় যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, সাময়িক সংস্কারের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; দীর্ঘ যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে দ্রুত একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, খোয়াই নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অচিরেই নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
