সোনাগাজী : নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

0
11

সংবাদ প্রতিবেদন : নিত্যবয়ান সংবাদদাতা, সোনাগাজী (ফেনী)।

​ফেনীর সোনাগাজীতে নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর সিদরাতুল মুনতাহা আয়াত নামের তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২১শে আগস্ট, ২০২৬) ভোরে উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যম চরচান্দিয়া গ্রামের ঈদগাহের পশ্চিম পাশে মোজাফফর বাড়ির একটি পুকুর থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পরিবার। এ ঘটনায় শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ ঘিরে দুই পরিবারের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আয়াতের বাবা শেখ শাহাব সজীব এবং মা জান্নাতুল ফেরদাউস মনি সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই-বোন। বিয়ের এক বছর পর সজীব সৌদি আরবে পাড়ি জমান। শিশুর মা মনির অভিযোগ, স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পর শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে তিনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। আগামী মাসে স্বামীর দেশে ফেরার কথা থাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এর আগে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান শামছুউদ্দিন খোকনের মধ্যস্থতায় অন্য এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

​অন্যদিকে, স্বামীর পরিবারের দাবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২০শে আগস্ট, ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে দাদির কাছে আয়াতকে রেখে বাবার বাড়িতে গৃহস্থালির কাজে যান মনি। দুপুর ১টার দিকে দাদি নামাজ পড়তে গেলে শিশুটি নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর দুপুর দেড়টার দিকে আয়াতের দাদা শেখ মুজিব সোনাগাজী মডেল থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির মা মনি তার দাদাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

​বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সোনাগাজী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে শিশুটির ফুফু রুমি আক্তার বাড়ির পুকুরে আয়াতের মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বাদ আসর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here