
রাসেল আহমেদ,খুলনা
খুলনা মহানগরী থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল আড়াই বছর পর উদ্ধার হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এক সদস্য—এ তথ্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের দাবি, তিনি বাগেরহাট থেকে নিলামের মাধ্যমে বাইকটি কিনেছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা সদর থানা এলাকা থেকে লাল-সাদা রঙের একটি ইয়ামাহা ফেজার মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় মালিক মেহেদী আল মাহমুদ শরীফ ৬ সেপ্টেম্বর একজনকে নামধারী ও তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। দীর্ঘদিনেও বাইকটি উদ্ধার না হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
চলতি বছরের ৫ এপ্রিল নগরীর বৈকালী এলাকার একটি পেট্রোলপাম্পে নিজের মোটরসাইকেলটি দেখতে পান শরীফ। পরে সেটি শনাক্ত করে আটকে দিলে চালক ইসরাফিল জানান, বাইকটি তিনি কেএমপির এক সদস্যের কাছ থেকে নিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কেএমপির ওই সদস্য আজিজ বাগেরহাট থেকে নিলামের মাধ্যমে মাত্র ১৭ হাজার টাকায় মোটরসাইকেলটি কেনেন। যদিও বাইকটির বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন মূল মালিক।
ঘটনার পর শরীফ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে খালিশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি জব্দ করে।
খালিশপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ কুমার রায় বলেন, মোটরসাইকেলটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। একটি চুরির মামলা রয়েছে, অন্যদিকে নিলামের দাবি এসেছে। এ কারণে বিষয়টি আদালতের কাছে পাঠানো হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাট আদালতের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পরিপ্রেক্ষিতে মোটরসাইকেলটি নিলাম করা হয়েছিল। তবে নিলামের আগে প্রকৃত মালিকানা যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মোটরসাইকেলের মালিক শরীফ বলেন, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর অনুযায়ী বাইকটি তারই। চুরির পর মামলা করা সত্ত্বেও কীভাবে এটি নিলামে বিক্রি হলো, তা তার বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, “নিজের বাইক ফেরত পেতে এখন আমাকে আদালতে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ ঘটনায় চুরি হওয়া সম্পদ নিলাম প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি এখন আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।