
মো: রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের পুরুলিয়া গ্রামের মো: আজিজুর মোল্লার ছেলে চাচুড়ি মাদ্রাসার ছাত্র মো: অনি মোল্লা (১৩) গত ৭ থেকে ৮ দিন আগে ভয় পেয়ে জ্বর হলে স্থানীয় চিকিৎসকদের দেখিয়ে (১৬ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের আগদীয়া গ্রামের কথিত কবিরাজ খোকনের কাছে নিয়ে গেলে শিশুকে ঝাড়ফুঁক করে,পড়া বিস্কুট খাওয়ায় এবং শিশুর চোখে মূখে পানি ছিটা দিলে শিশু অচেতন হয় পড়ে।
এ সময় কথিত কবিরাজ খোকন শিশুর মা-হিরা বেগম ও চাচা হাদিউর রহমান কে বলেন, শিশুটি ব্রেন স্টোক করেছে,আপনারা হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় পরিবারের সদস্য’রা শিশুকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তত্বরত চিকিৎসক রোশনী খানম শিশু অনি মোল্লা কে মৃত- ঘোষণা করেন। মৃত-অনি’র -মা হিরা বেগম এবং চাচা হাদিউর রহমান বলেন,অনি মাদ্রাসা থেকে ভয় পাওয়ার পরে জ্বর হলে আমরা স্থানীয় চিকিৎসকদের দেখিয়ে,আগদিয়া খোকন হুজুরের কাছে নিয়ে গেলে হুজুর ঝাড়ফুঁক দিয়ে বিস্কুট খায়িয়ে চোখেমুখে পানি ছিটিয়ে দিলেই অনি’র চোখমুখ উল্টে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে খোকন হুজুর বলে বাচ্চাটি ব্রেন স্টোক করেছে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এসময় আমরা অনিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তত্বরত চিকিৎসক মৃত- বলে ঘোষণা করে। নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তত্বরত মেডিকেল অফিসার রোশনী খানম বলেন,বাচ্চাটিকে মৃত- অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে আনার আগে কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে ঝাড়ফুঁক করে বিস্কুট খাওয়ানোর পরে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে,বাচ্চাটি ব্রেন স্টোক করেছে জানায় কবিরাজ এবং বাচ্চা’র মা আমাকে জানায়।
একজন কবিরাজ না জেনে কিভাবে বলে বাচ্চাটি ব্রেন স্টোক করেছে বুঝিনা,বলেও জানান এ চিকিৎসক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত খোকন কবিরাজ সত্যতা শিকার করে বলেন,আমার কাছে বাচ্চাটিকে নিয়ে আসলে আল্লার কালাম পড়ে ঝাড়ফুঁক দিয়ে বিস্কুট একটা খাওয়ানোর পরেই চোখমুখ উল্টে পড়লে আমি তাদের জানায়,
বাচ্চাটি ব্রেন স্টোক করেছে,তারা বাচ্চাটিকে হাসপাতালে নিয়ে চলে যায়।
ডিগ্রি ছাড়া আপনি কিভাবে বুঝলেন,বাচ্চাটি ব্রেন স্টোক করেছে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
আমার ৫টা সনদ আছে,ড্রাগ লাইসেন্স আছে,আমি ঔষুধ বিক্রি করতে পারি এবং ডাক্টার হিসাবে রোগীদের দেখে দেখে ঔষুধ দিচ্ছি। এদিকে,কথিত এই কবিরাজ খোকন দির্ঘদিন ধরে লক্ষ লক্ষ টাকার ইউনানী ও আয়ুর্বেদী ঔষুধ মজুত করে অসহায় মানুষদের কাছে বিক্রির মাধ্যমে অপচিকিৎসা দিয়ে আসছে। কবিরাজ নামধারী খোকনের ভেল্কিবাজিতে একাধিক নারী-পুরুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
এমন অপচিকিৎসার বিষয়ে এর আগেও গণমাধ্যম কর্মীরা কথিত কবিরাজ নামধারী খোকনের ফার্মেসীতে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা,ড্রাগ লাইসেন্স,কি চিকিৎসক কাগজ পত্র আছে কিনা,জানতে চাইলে খোকনের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে গণমাধ্যম কর্মিদের উপরে হামলা চালায় এবং মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলা করে। সেই মিথ্যা মামলা থেকে মহামান্য আদালত ৩ জন সাংবাদিককে বেখশুর খালাস দেন ও মিথ্যা মামলার বাদি খোকনকে তওয়াবা পড়ান।
এদিকে,দীর্ঘদিনের এই অপচিকিৎসার বিষয়ে নড়াইল স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের নজর না থাকাই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিয়তই অপচিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে কথিত এই নামধারী কবিরাজ খোকন।
এ বিষয়ে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো: ইদ্দিস আলী বলেন,আমি আপনার কাছ থেকেই সুনলাম,কেউ অভিযোগ করেনি,আমরা খোঁজ নিচ্ছি বলেও জানান এ কর্মকর্তা।