
মো: রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ
নড়াইল সদর উপজেলার কমলাপুর ও গন্ধব্যখালী এলাকায় কৃষকদের জন্য স্থাপিত কোটি টাকা মূল্যের দুটি সেচপাম্প দীর্ঘ আট বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে জেলার প্রায় ১ হাজার ৩৭ হেক্টর কৃষিজমি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে,আর উৎপাদন খরচ বেড়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-
পশ্চিমাঞ্চলের পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৯৮৫ সালে প্রায় ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি সেচপাম্প স্থাপন করা হয়।
কমলাপুরে সাড়ে ৮ কিলোমিটার এবং গন্ধব্যখালীতে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেচখাল খননের মাধ্যমে চিত্রা নদী থেকে সরাসরি কৃষিজমিতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে পাম্প দুটি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ২০১৯ সালে মেরামতের জন্য ৩৫ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।
সম্প্রতি ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়,সেচপাম্পগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। প্রকল্প কার্যালয়ের ফটক ভাঙা,অফিস কক্ষে তালা ঝুলছে,চারপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত এই স্থানে মাঝে মাঝে অসামাজিক কার্যকলাপের ঘটনাও ঘটে। সেখানে দায়িত্বরত গেট অপারেটর ইয়ামিন তরফদার জানান,দীর্ঘদিন পাম্প বন্ধ থাকায় কোনো কর্মকর্তা এখানে আসেন না। আমি একা থাকি,নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় আছি।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি,আগে এই সেচপাম্পের মাধ্যমে তারা কম খরচে জমিতে পানি দিতে পারতেন এবং বছরে তিনটি ফসল ফলানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
কমলাপুরের কৃষক অপূর্ব সিকদার বলেন,আগে খুব কম খরচে সেচ পেতাম। এখন এক কানি জমিতে সেচ দিতে ১০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
নাকশি গ্রামের কৃষক আলম সরদার জানান,পাম্প চালু থাকলে তিন গ্রামের কৃষক উপকৃত হতো। এখন খরচ বেড়ে গেছে। দ্রুত সংস্কার করে চালুর দাবি জানাই। নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন,সেচপাম্প দুটি বিকল হয়ে যাওয়ার পর মেরামতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ।
পুনরায় চালুর জন্য আবারও মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের একটাই দাবি, দ্রুত সেচপাম্প সংস্কার করে পুনরায় চালু করা হোক,যাতে কম খরচে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয় এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ে।