কেন্দুয়ায় জাকারিয়া ও পাবেল নামের দুই শিক্ষককে চাকরিতে পূর্ণ বহালের পাঁয়তারা করছেন কেয়ারটেকার আব্দুল কাইয়ুম

স্টাফ রিপোর্টার:

অবৈধ সার্টিফিকেট দিয়ে দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে ইসলামি ফাউন্ডেশনের অধীনে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে শিক্ষক পদে চাকরি করে আসছে দুই শিক্ষক, তারা হলেন বলাইশিমুল ইউনিয়নের ভরাপাড়া গ্রামের মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে মো. জাকারিয়া ও একই ইউনিয়নের নোয়াদিয়া (গন্ডবপুর) গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. পাভেল মিয়া। প্রাথমিকভাবে ও-ই দুই শিক্ষক চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ওই দুই শিক্ষককে স্বপদে পূর্ণবহালের পাঁয়তারা করছেন ইসলামি ফাউন্ডেশন কেন্দুয়া প্রকল্পের কেয়ারটেকার বলাইশিমুল ইউনিয়নের নোয়াদিয়া (গন্ডবপুর) গ্রামের মৃত জাহের উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুল কাইয়ুম।

জানা যায় নোয়াদিয়া (গন্ডবপুর) গ্রামের আ. ছোবানের ছেলে আরিফ হোসেন বাসুত চলতি মাসের ১৬ মার্চ জাল সনদ বানিয়ে চাকরি দেয়ার দায়ে কেয়ারটেকার মো. আব্দুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে ইসলামি ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক নেত্রকোণা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে মো. জাকারিয়া ও পাভেল মিয়াকে ইসলামি ফাউন্ডেশনের অধীনে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে শিক্ষক পদে চাকরি জাল সনদের মাধ্যমে চাকরির অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। ও-ই দুই শিক্ষক মো. জাকারিয়া ও পাভেল মিয়াকে কেয়ারটেকার আব্দুল কাইয়ুম নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল যা সম্পূর্ণভাবে জালিয়াতি ও প্রতারণার শামিল বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। এছাড়াও অভিযুক্ত কেয়ারটেকার আব্দুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে অসদাচরণ ও বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে বলে জানান বাসুত মিয়া। কোনো উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিদর্শনে আসলে তিনি তার অনুসারী শিক্ষকদের আগেই সতর্ক করে দেন আব্দুল কাইয়ুম। কেন্দুয়ায় ইসলামি ফাউন্ডেশনের মাসিক সমন্বয়ক মিটিংয়ে উপজেলার সুপারভাইজার মো. খায়রুল ইসলাম উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্য না-কি বলেন, যে মো. জাকারিয়া ও পাভেল মিয়া নামের দুই শিক্ষক জাল সনদের দায়ে চাকরিচ্যুত হয়েছেন আপনারাও সতর্ক থাকবেন আপনাদের সনদ জাল প্রমানিত হলে একই অবস্থা হবে।

অভিযোগ উঠেছে কেয়ারটেকার আব্দুল কাইয়ুম চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষককে পূনরায় চাকরিতে যোগদানের জন্য অবৈধ পন্থা অনুসরণ করার চেষ্টা করছেন। এছাড়াও উপজেলায় যেকোন সুপারভাইজার কর্মরত থাকেন তিনি তার সাথেই বাজে ব্যবহার করেন। একজন সাধারণ কেয়ারটেকার হলেও তিনি মাঠপর্যায়ে না গিয়ে নিজ এলাকায় অবস্থান করে শুধু বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন।

কেয়ারটেকার আব্দুল কাইয়ুম ইসলামি ফাউন্ডেশনে কর্মরত থেকেও চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষককে স্বপদে চাকরি পাইয়ে দিবে বলে তাদের সাথে আর্থিক লেনদেন করে প্রতিনিয়ত জেলা অফিসের ফিল্ড অফিসারের সাথে যোগাযোগ করছে। অভিযোগকারী মো. বাসুত মিয়া ও এলাকাবাসী বলেন, খুব দ্রুত ওই দুর্নীতিবাজ কেয়ারটেকার ও চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

মাসকা ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াদিয়া বালিজুড়া বাজারের ধান ব্যবসায়ী মো. আবুল খায়ের বলেন, কেয়ারটেকার আব্দুল কাইয়ুম ভূয়া সার্টিফিকেট দিয়ে মানুষকে চাকরি দেন। যখন যে দল ক্ষমতায় যান তিনি সেই দলের হয়ে
অনুসারী হয়ে যান। তিনি ভালো মানুষ না আমরা তার বিচার চাই।

তবে, অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন অভিযুক্তরা।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ