
সোহেল রানা বাবু, বাগেরহাট
বাগেরহাটের শরণখোলায় আলোচিত কিশোরী ফাতেমা আক্তার রিয়া মনি (১৫) হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামীর মধ্যে একজন এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন আদালতে।
আসামীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মাদক বেচাকেনা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে শরণখোলা থানা মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের মাসুম বিল্লাহ হাওলাদারের ছেলে ও রায়েন্দা বাজারের কসমেটিক (প্রসাধনি)) ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রুবেল (৩৫), রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর কদমতলা গ্রামের আওয়াল সরদারের ছেলে মিজানুর রহমান (২৩) ও উত্তর রাজাপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে কসাই তুহিন (২১)। এদের মধ্যে আসামী মিজানুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে শনিবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।
ওসি শামিনুল হক জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। আলামত হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আরো তথ্য উদ্ঘাটনে আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কী না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের অঙ্গীকার করে ওসি আরো জানিয়েছেন, কিশোরীর মৃত্যুর নেপথ্যে মাদক এবং অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কের প্রমান রয়েছে।
দেশে অহরহ হত্যাসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এই মাদকের কারণেই। মাদকের ভয়াল নেশায় আশক্ত হয়ে পড়ছে কিশোর-কিশোরী ও যুব সমাজ। মাদক নির্মূলে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর গ্রামের একটি মসজিদের কবরস্থানের পাশের রাস্তা থেকে কিশোরী ফাতেমা আক্তার ওরফে রিয়া মনির (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আজিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামী করে শরণখোলায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ##