
সংবাদ প্রতিবেদন : বাংলা প্রেস মিডিয়া ডেস্ক।
দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগের ধারাবাহিকতায় এবার ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আবেদন করেছেন প্রবীণ আইনজীবী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা এডভোকেট সফিকুর রহমান মজুমদার (রফিক)। ২৫ মার্চ, ২০২৬ বুধবার বিকেলে তিনি এই আবেদনপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি সরকার দেশব্যাপী ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক পদায়ন করেছে, যার মধ্যে ফেনী জেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বিগত দিনের কর্তৃত্ববাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী এই প্রবীণ রাজনীতিক নিজেকে দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে উক্ত শূন্য পদে দায়িত্ব পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মরহুম হাজী বাদশা মিয়া মজুমদারের সন্তান সফিকুর রহমান তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার আলোকে ফেনী জেলার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আশা ব্যক্ত করেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু করে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত রাধানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে দুই মেয়াদে যথাক্রমে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল এবং ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, ২০০২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ফেনী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবেও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি ফেনী দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সাল থেকে শুরু করে টানা সাড়ে পাঁচ বছর তিনি ফেনী আদালতে সরকারি কৌঁসুলি বা জিপি হিসেবে আইনি সেবা প্রদান করেন। আইন পেশায় নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি ফেনী জেলা আইনজীবী ফোরাম এবং আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন।
পারিবারিক জীবনে এডভোকেট সফিকুর রহমান ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার সহধর্মিণী খোদেজা বেগম হলেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার চাচা জামশেদ মজুমদারের কনিষ্ঠ কন্যা। রাজনৈতিক ও পারিবারিক এই দীর্ঘ প্রেক্ষাপট এবং আইনি অঙ্গনে তার বিস্তৃত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই তিনি ফেনী জেলা পরিষদের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদের জন্য নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দাবি করেছেন।