
শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের সোনালী মুহূর্তগুলো আরও প্রাণবন্ত করতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নিজ নির্বাচনী এলাকায় ছুটে এসেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শরীফুল আলম।
গত ১৮ মার্চ বিকেল থেকে কুলিয়ারচর উপজেলার পৌর এলাকার বেতিয়ারকান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান গ্রহণ করে তিনি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। হাসিমুখে কুশল বিনিময়, আন্তরিক আলাপ এবং করমর্দন—এভাবে এলাকার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন এই জননেতা।
ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে, তিনি নিজ উদ্যোগে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন ঈদ উপহার।এতে অসংখ্য পরিবারে আনন্দ ও স্বস্তির ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও তিনি ভৈরবের ছাত্র ও যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত দরিদ্রদের খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এই সময়ে তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান—ঈদের প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার সঙ্গে ভাগ করা হয়।
পবিত্র ঈদের দিন সকালে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে লাখো মুসল্লির সঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নেন তিনি। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।
ঈদের নামাজ আদায় শেষে তিনি সরাসরি পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব ছিদ্দিক মিয়া সাহেবের কবর জিয়ারত করেন।এ সময় তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নীরবে কাটান। ক্ষনিকের জন্য যেন ঈদের আনন্দের কোলাহল মিলিয়ে যায় গভীর নীরবতায়, আর সেখানে ভেসে ওঠে পিতার প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা আর অগাধ ভালোবাসা ও স্মৃতিময় ভাবাবেগের বহিঃপ্রকাশ।
প্রতিমন্ত্রী দীর্ঘক্ষণ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে পিতার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে প্রার্থনা করেন তিনি। জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পিতার অবদান, ত্যাগ ও দিকনির্দেশনার কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
পারে বিকেলে নিজ গ্রামের বাড়িতে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সর্বসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উৎসবমুখর এই মিলনমেলায় ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসাথে মেতে ওঠেন আনন্দে।
ঈদের পরদিন থেকে তিনি সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান এবং ভৈরবের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে। আগামী ২৩ মার্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও, ভৈরব-কুলিয়ারচরের মানুষজনের হৃদয়ে তার ভালোবাসা ও মানবিকতার ছাপ দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।