‘প্রতিদিনের কাগজ’ এর প্রকাশনা বন্ধে হাইকোর্টের রুল

সংবাদ প্রতিবেদন : ডেস্ক, ঢাকা

​মালিকানা এবং প্রকাশনার বৈধতা নিয়ে চলমান অস্বচ্ছতার জেরে দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকাটির প্রকাশনা কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ মহামান্য হাইকোর্ট একটি আইনি রুল জারি করেছে। একই সঙ্গে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত থাকার পেছনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নীরবতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও আদালত সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা তলব করেছে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই যুগান্তকারী আদেশ প্রদান করে।

​দৈনিক প্রলয় পত্রিকার বর্তমান নির্বাহী সম্পাদক এবং বিতর্কিত ওই পত্রিকাটির সাবেক সহ-সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলামের দায়ের করা ১৮২৫১/২০২৫ নম্বর রিট পিটিশনের ওপর ভিত্তি করে আদালত এই নির্দেশনা দেয়। আইনি শুনানিতে ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইনের ২৩ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের বিষয়টি বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, পত্রিকাটির সরকারি ডিক্লেয়ারেশনে প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে মাহমুদুল হাসান রতনের নাম নিবন্ধিত থাকলেও, দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকার প্রিন্টার্স লাইনে ইয়াসমিন শীলাকে সম্পাদক ও প্রকাশক এবং খায়রুল আলম রফিককে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে প্রদর্শন করা হচ্ছিল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিবন্ধিত ব্যক্তির নাম পরিবর্তন করে অন্যের নাম ব্যবহার করা নিছক কোনো অনিয়ম নয়, বরং এটি কাঠামোগত প্রতারণা।

​আদালতের এই রুলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পত্রিকাটির স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খায়রুল আলম রফিককে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখিত বিবাদীদের এই রুলের আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোর্টের মাধ্যমে এবং রেজিস্টার্ড ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের ঠিকানায় নোটিশ প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সাকিব মাবুদ এবং রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান ও আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুল করিম।

​রিট আবেদনকারী শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করে জানিয়েছেন, পত্রিকা পরিচালনার আনুষঙ্গিক খরচের কথা বলে ২০২২ সালে তিনি এবং তার বর্তমান প্রতিষ্ঠানের প্রধান সম্পাদক লায়ন মো. মির্জা সোবেদ আলী খায়রুল আলম রফিককে বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিলেন। এর বিনিময়ে তারা ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকের পদ পেলেও পরবর্তীতে জানতে পারেন রফিক পত্রিকাটির মূল মালিক নন এবং এটি ময়মনসিংহ থেকে পরিচালিত একটি আঞ্চলিক পত্রিকা মাত্র। প্রদত্ত অর্থ ফেরত চাওয়ায় রফিক উল্টো তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে সম্মানহানির চেষ্টা করেন বলে তিনি দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া পত্রিকাটির এই দ্বৈত মালিকানা সংকট এবং আইনি জটিলতা নিরসন সম্ভব নয়।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ