
খুলনা সংবাদদাতা
:
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল তেরখাদা উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ঢাকায় তেরখাদা উপজেলা কল্যাণ সমিতি দুটি থাকার বিষয়েও বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, নিজেদের মধ্যে বিভক্তি থাকলে এলাকার অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর এলজিআরডি অডিটোরিয়ামে ঢাকাস্থ তেরখাদা উপজেলা কল্যাণ সমিতির আয়োজনে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, তেরখাদা উপজেলার উন্নয়ন করতে হলে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু এলাকার উন্নয়নের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে একই পথে থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ইফতারের আগ মুহূর্তে আমরা তেরখাদার মানুষ এখানে একসঙ্গে বসেছি—এটাই আমাদের শক্তি। তেরখাদার অনেক মানুষ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ব্যক্তিরাও দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ করছেন।
সমিতির বিভক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এমপি হেলাল বলেন, ঢাকায় তেরখাদা উপজেলা সমিতি দুটি রয়েছে—এটা দেখে আমি অবাক হয়েছি। একটি উপজেলার জন্য দুটি সমিতি কেন থাকবে? আমরা যদি নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে অনেক অর্জনই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আমি চাই সবাই একসঙ্গে কাজ করি।
নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী সময়ে তেরখাদায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত কিংবা এনসিপি—প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ রাজনীতি করবে। কিন্তু তেরখাদার উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই এক থাকব। এ বিষয়ে আমার সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমি সবসময় পাশে থাকব।
তিনি আরও বলেন, ইফতারের আগে আল্লাহ তায়ালা দোয়া কবুল করেন। তাই আমরা সবাই দোয়া করবো—আল্লাহ যেন তেরখাদার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রফেসর এস এম আবুল খায়ের, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নুর ইসলাম এবং সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক শেখ সেলিম। সম্মানিত অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ।
তেরখাদা উপজেলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি এস এম নেওয়াজ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোল্লা নজরুল ইসলাম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা লিয়াকত আলী, শিকদার বদিরুজ্জামান, শেখ ফরিদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদাউস উর রহমান, তরফদার সোহেল রহমান, তরফদার আবুল কাশেম, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজা, জাকির তালুকদারসহ তেরখাদার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।