
শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় কালিকা প্রসাদ ইউনিয়নের মিরারচর এলাকায় রেললাইনের পাশের ঝোপঝাড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জনতা ব্যাংকের আলমগীর নামের এক কর্মচারীর মরদেহ।
বুধবার (৫ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার মিরারচর এলাকার রেললাইনের পাশের ঝোপ থেকে আলমগীর হোসেন (৪০) নামের ওই ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি জনতা ব্যাংক-এর ভৈরব শাখায় কর্মরত ছিলেন।
নিহত আলমগীর হোসেন হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর লম্বাহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন এক সন্তানের জনক ও দায়িত্বশীল স্বামী। তাঁর শ্বশুরবাড়ি ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ আদর্শপাড়া গ্রামে। স্ত্রী তাসলিমা বেগম স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। পরিবার-পরিজনের ভাষ্য, শান্ত স্বভাবের ও কর্মনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে এলাকায় তাঁর সুনাম ছিল।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, চার দিন আগে হঠাৎ নিখোঁজ হন আলমগীর। বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, হাসপাতাল সবখানে খোঁজ নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেওয়া হয় নিখোঁজ সংক্রান্ত পোস্ট। কিন্তু কোনো সন্ধান মেলেনি।
বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা মিরারচর এলাকায় রেললাইনের পাশের ঝোপে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ভৈরব রেলওয়ে পুলিশ-এর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বোতলটিতে বিষ জাতীয় কোনো পদার্থ থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, “মরদেহে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”