
মো: রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ
নড়াইল সদর উপজেলার চুনখোলা মোড়ে গত (২০ জানুয়ারি) সকালে শিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খাইরুজ্জামান খায়ের মোল্লার সমর্থকদের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর জখম হয় শিংগা গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে শহিদুল মোল্যা।
অভিযোগ রয়েছে,সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্লার অনুসারীরা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে শহিদুল মোল্যাকে গুরুতর আহত করে।
এ সময় সন্ত্রাসী হামলায় শহিদুল মোল্যার হাতের আঙ্গুল ও পা ভেঙে খন্ড খন্ড হয়ে যায় এবং আহত শহিদুল মোল্যা দীর্ঘদিন ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসার পর এখন পঙ্গু অবস্থায় নিজ বাড়িতে অসহায় ভাবে জীবনযাপন করছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,খায়ের মোল্লার সমর্থকদের সন্ত্রাসী হামলার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় শহিদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান,তার পায়ে গুরুতর আঘাত ও হাড় ভাঙার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সক্ষমতা হারিয়েছেন শহিদুল মোল্যা। বর্তমানে তিনি ৬ মাস লাঠির ওপর ভর করে চলাফেরা করবেন বলেও জানিয়েছেন,ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল চিকিৎসক।
এদিকে,খায়ের মোল্লা সমর্থক মো: ওসমান ফকিরের দায়ের হত্যা মামলার এজাহারে পঙ্গু শহিদুল মোল্যাকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের দাবি,যে ব্যক্তি নিজেই হামলার শিকার হয়ে পঙ্গু,তাকে কীভাবে হত্যাকাণ্ডের আসামি করা হলো,
এটা কেমন আইন।
শহিদুল মোল্যা বলেন,আমাকে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে। আমি ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। দুটি লাঠি ছাড়া,এক পা-ও চলতে পারি না। অথচ আমাকে হত্যা মামলার ৫ নাম্বার আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার দিন তো দূরের কথা,
আমি তখন চিকিৎসাধীন ও চলাফেরায় অক্ষম ছিলাম। আমাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,আমি নিরপেক্ষ তদন্ত চাই,যারা প্রকৃত অপরাধী,তাদের বিচার হোক। কিন্তু নির্দোষ কাউকে যেন হয়রানি না করা হয় বলেও জানান তিনি। ঘটনার দিন আমার পিতা আতিয়ার মোল্লা ও আমার ছোট ভাই সেহেরী খেয়ে,মসজিদে নামাজ পড়ে বের হয়ে দেখেন,মসজিদের সামনে দুইটি গাড়ি দাড়িয়ে রয়েছ এ সময় আমার বাবা ও ভাই মসজিদ থেকে বের হলেই খায়ের মোল্লার লোকজন আমার পিতাকে ধরে নিয়ে ঘেরের পাড়ে হত্যার চেষ্টা করে এবং আমার ভাই জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এ সময় পাশের মহিলারা আমার বাবা আতিয়ার মোল্লার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে এগিয়ে গেলে,আমার বাবাকে মৃত বলে ফেলে রেখে চলে যাই সন্ত্রাসীরা বলেও জানান ভুক্তভোগী পঙ্গু শহিদুল মোল্যা। এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান,
সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে নিহত খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় প্রথম হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় ৬৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে এবং (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিহত ওসিবুরের বাবা ওসমান ফকির বাদী হয়ে একই থানায় দ্বিতীয় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।