কেন্দুয়ায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে আহত- ৫

রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ৫জন গুরুতর জখম সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

ঘটনাটি চলতি মাসের ৪ ডিসেম্বর আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের বাড়লা গ্রামে ঘটেছে। এই ঘটনায় গত ১১ ডিসেম্বর জখমীদের পরিবারের সদস্য বাড়লা গ্রামের মো. সিদ্দিক মিয়া বাদী হয়ে একই গ্রামের মো. সানাউল্লাহ, জুয়েল মিয়া, সুলতু মিয়া, ডিলার মিয়া, হিমেল মিয়া, সোহেল মিয়া, মোস্তাক মিয়া, রেনু মিয়া, মজিবুর রহমান ও মো. শাহ আলমকে আসামী করে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গুরুত্ব জখমীরা হলেন, মো. মতিউর রহমান, আল আমীন, সুজন মিয়া, নাঈম মিয়া ও মো. রবিন মিয়া। এদের মধ্যে মো. মতিউর রহমানের শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ বলে জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী ও আসামীরা পার্শ্ববর্তী একই গ্রামের বাসিন্দা। প্রধান আসামী মো. সানাউল্লাহ ও তার গংরা অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। তারা বিভিন্ন সময়ে এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা লাগিয়েই রাখে। তাদের অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে স্বাভাবিক জীবন করতে পারে না।

হার্ভেস্টার মেশিনে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে আসামীরা শত্রুতা পোষণ করে ক্ষতিসাধন করার পাঁয়তারা করছিল। ঘটনার আগেরদিন বাদী সহ জখমীরা হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে হাওরে পাকাধান কাটতে গেলে প্রধান আসামী সানাউল্লাহ গংরা দৌড়ে গিয়ে বাঁধা প্রদান ও তর্কবিতর্ক সহ মারধর করে তাদের। ঘটনার তারিখ ও সময়ে জখমীরা নিজ বাড়ি হতে বাড়লা বিলের কাঁচা রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে পাইকুড়া বাজারে যাওয়ার সময় আসামীরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরিয়া রামদা, বল্লম, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি সহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হইয়া তাদের গতিপথ রোধ করে।

আসামী মো. মজিবুর রহমানের হুকুমে প্রধান আসামী মো. সানাউল্লাহ রামদা দিয়ে মো. মতিউর রহমানের মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে। এছাড়াও সকল আসামীরা বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বাদীর লোকজনের ওপর আঘাত করে তাদের গুরুতর জখম করে। সকল আসামীরা বাদীপক্ষের লোকজনকে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকলেও তারা দৌড়ে পালিয়ে বাঁচার কোন উপায়ন্তর না পেয়ে ডাক চিৎকার শুরু করলে পথচারী ও গ্রামের লোকজন আগাইয়া আসিলে সকল আসামীরা কিছু নিয়ন্ত্রণে এসে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে, তবে যাওয়ার সময় আসামীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যায় যে, পরবর্তীতে সুযোগমতো তাদের পাইলে খুন জখমের মতো ঘটনা ঘটাবে। আসামীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করিলে বাদী ও উপস্থিত লোকজনদের সহায়তায় জখমীদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কেন্দুয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জখমীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন তারা, পূনরায় যেন আসামীরা এই রকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটাতে পারে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. বাবুল মিঞা জানান, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ