
জসীমউদ্দিন ইতি ঠাকুরগাঁও ।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিবারের ওপর অভিমান করে ঘুমের ওষুধ খেয়ে লিপি (২৪) নামের এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। আজ শুক্রবার সকালে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত লিপি উপজেলার সেনগাঁ ইউনিয়নের দানাজপুর গ্রামের গুমানুপাড়া এলাকার চন্দ্র মোহন রায়ের মেয়ে। তিনি পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার লিপির ডিগ্রি পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে তিনি বাড়িতে ফিরলে তাঁর বাবা জানান যে, বিয়ের জন্য তাঁকে দেখতে ছেলেপক্ষ আসবে। লিপি এই মুহূর্তে বিয়েতে রাজি নন বলে পরিবারকে সাফ জানিয়ে দেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ ও অভিমান করে গত রাতে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের বড়ি সেবন করেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ওয়ারিস ইয়াজদানি জানান, বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে ওই ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর পাকস্থলী পরিষ্কার করে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল। তবে আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরপরই স্বজনেরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
সেনগা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, “পারিবারিকভাবে বিয়ের চাপ দেওয়ায় মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সেই অভিমান থেকেই তিনি এমন চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাকিম জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে বাড়িতে চলে যান। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।
এক জন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।