ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতীকে ইএসডিও’র ইফতার মাহফিল: একটি পর্যবেক্ষণ না বিশৃঙ্খলার ভিড়ে শৃঙ্খলার শিক্ষা

জসীমউদ্দীন ইতি ঠাকুরগাঁও।

 

পবিত্র মাহে রমজান কেবল সিয়াম সাধনা ও আত্মশুদ্ধির মাস নয়; এটি আমাদের সমাজজীবনে পারস্পরিক সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ চর্চার এক অনন্য সুযোগ। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ে ইএসডিও (ESDO) কর্তৃক আয়োজিত ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে যে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ পরিলক্ষিত হলো, তা কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; বরং আমাদের দৈনন্দিন ও সামাজিক জীবনে ‘সুশাসন’ ও ‘ব্যবস্থাপনার’ একটি চমৎকার উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এমপি-র উপস্থিতি এই আয়োজনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (NGO) হিসেবে ইএসডিও দীর্ঘকাল ধরে উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তির সাথে মাঠপর্যায়ে উন্নয়নকর্মীদের এই মিথস্ক্রিয়া আমাদের অঞ্চলের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের পথ খোঁজার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। ইফতারের টেবিলে যখন নীতি-নির্ধারক ও সাধারণ মানুষের এই মিলন ঘটে, তখন তা উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির এক অনানুষ্ঠানিক ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে।

একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি অসংখ্য ইভেন্ট কভার করি। কিন্তু এবারের ইএসডিও’র ইফতার আয়োজনে আমার দৃষ্টি আটকে গেছে তাদের ব্যবস্থাপনা কৌশলের ওপর। কোনো বড় অনুষ্ঠানে যখন মানুষের সমাগম বেশি হয়, তখন শৃঙ্খলা রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ইএসডিও সেখানে দেখিয়েছে পেশাদারিত্ব।

ছোট ছোট প্রতিটি বিষয়ের সুবিন্যস্ত বিন্যাস প্রমাণ করে যে, ইএসডিও তাদের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও একই ধরনের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা অনুসরণ করে।

একটি বড় আয়োজনে সময় ব্যবস্থাপনা ও অতিথিদের আপ্যায়নের প্রতিটি স্তরে যে পরিপক্কতা ছিল, তা আমাদের বর্তমান সামাজিক অস্থিরতার যুগে একটি শিক্ষণীয় বার্তা দেয়।

শৃঙ্খলা বজায় রাখা মানেই হলো উপস্থিত অতিথিদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। এই আয়োজনটি সেই শ্রদ্ধার একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।

বর্তমান সময়ে মানুষের সাথে মানুষের দূরত্ব বাড়ছে, সেখানে এ ধরনের আয়োজনগুলো মানুষের হৃদয়ের দূরত্ব ঘোচাতে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ যখন এককাতারে ইফতারের অপেক্ষায় বসেন, তখন তা আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

ইফতার মাহফিলের এই সুশৃঙ্খল আবহই হোক ঠাকুরগাঁওয়ের আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতীক। আমাদের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি কর্মকাণ্ডে যদি এমন শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা থাকে, তবে টেকসই উন্নয়ন কেবল স্বপ্ন নয়, বরং হাতের মুঠোয় চলে আসা বাস্তবতা। ইএসডিও’র এই আয়োজনের ব্যবস্থাপনা কৌশল থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো যদি উদ্বুদ্ধ হয়, তবে আমাদের জনপদ আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

পরিশেষে, ইএসডিও’র এই আয়োজন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল—’সুন্দর ব্যবস্থাপনা একটি সুন্দর সমাজ গড়ার প্রথম ধাপ। এই চর্চা অব্যাহত থাকুক, এই প্রত্যাশাই করি।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ