মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে হত্যা : ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন আটক

0
10

সংবাদ প্রতিবেদন : নিত্যবয়ান সংবাদদাতা, ফেনী।

​ফেনী শহরের মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ঘুমন্ত স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় নুর নবী হোসেন (৩০) নামে এক দিনমজুরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোমবার (২৭শে জুলাই, ২০২৬) দিবাগত রাত ২টার দিকে জেলার দাগনভূঞা উপজেলা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত মো. শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেনকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।

​রবিবার (২৬শে জুলাই, ২০২৬) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফ্লাইওভারের নিচে ১৩নং ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমার ভাষ্যমতে, ঘুমন্ত অবস্থায় শাহ পরান তাঁকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে স্বামী নুর নবীর ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নুর নবী ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ পরানের নাকে ঘুষি দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে নুর নবীর পেটের দুই পাশে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্ত্রী ফাতেমা স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাজারী রোড এলাকায় শারীরিক অবস্থা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে পুনরায় ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

​এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৫৫) দায়ের করেন। ফেনীর পুলিশ সুপার ও সোনাগাজী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ফেনী মডেল ও দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে শাহ পরানকে আটক করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন মর্মে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচের একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি উদ্ধার করা হয়।

​পুলিশ জানিয়েছে, আটক শাহ পরানের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে। তিনি দাগনভূঞা উপজেলার ৮নং জায়লস্কর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ নেওয়াজপুর গ্রামের মৃত শাহ আলম ও সাজেদা বেগমের ছেলে। বর্তমানে তিনি মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচেই ভাসমান অবস্থায় থাকতেন। অন্যদিকে নিহত নুর নবী ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মনসাদ বাড়ি এলাকার আবদুর রব ও আঞ্জু বেগমের ছেলে। নদীভাঙনের পর তাঁর পরিবার ঢাকায় বসবাস শুরু করলেও তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফেনীতে চলে আসেন। দাগনভূঞার মৃত বেলাল হোসেনের মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বোতল কুড়িয়ে ও দিনমজুরের কাজ করে ফ্লাইওভারের নিচেই ভাসমান জীবনযাপন করতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here