পরিবেশ মন্ত্রী : ‘ভূমির সুরক্ষা ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা অসম্ভব’

0
18

সংবাদ প্রতিবেদন : নিত্যবয়ান ডেস্ক।

​জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমির সুরক্ষাকে পরিবেশগত ব্যয় হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক ও উন্নয়নগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে সোমবার (২৪শে আগস্ট, ২০২৬) জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজের (কপ১৭) ফাইন্যান্স ডে উপলক্ষে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ‘স্বাস্থ্যকর ভূমি ও খরা সহনশীলতায় উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থা’ শীর্ষক এই মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে ভূমি অবক্ষয় রোধে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর কার্যকর অর্থায়নের ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ।

​বাংলাদেশ কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও জলবায়ু-সহনশীল খাতে রূপান্তর করছে উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমি পুনরুদ্ধারে প্রাথমিক ক্ষতির মূলধন এবং মিশ্র অর্থায়নের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ২০০৯ সাল থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে দেশীয় অর্থায়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম এই তহবিলে এ পর্যন্ত ৪৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সংস্থান করা হয়েছে। এই সহায়তায় ইতোমধ্যে ১২টি নতুন প্রতিকূলতা-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন এবং কৃষকদের মাঝে ১৯ হাজার ৪০০ মেট্রিক টনের বেশি খরা ও লবণাক্ততা-সহনশীল বীজ বিতরণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান চাহিদার তুলনায় তহবিলের বার্ষিক বরাদ্দ অপ্রতুল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​আন্তর্জাতিক অর্থায়নকে জাতীয় উদ্যোগের বিকল্প নয়, বরং বিদ্যমান ঘাটতি পূরণের সহায়ক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান পরিবেশ মন্ত্রী। ঋণের বিনিময়ে প্রকৃতি ও জলবায়ু সংরক্ষণ এবং ভূমি পুনরুদ্ধারে সবুজ বন্ড চালুর মতো উদ্ভাবনী ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন তিনি। এই ধরনের অর্থায়ন নিশ্চিত হলে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি এবং জাতীয় সবুজ মিশনের আওতায় ২৫ কোটি চারা রোপণের মাধ্যমে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী মত প্রকাশ করেন।

​উজানের পানিপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মতো বদ্বীপ রাষ্ট্রে লবণাক্ততা ও খরার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেন পরিবেশ মন্ত্রী। অভিন্ন নদী অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন জোরদার এবং পানি-সংকট ও ভূমি অবক্ষয়সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। কপ১৭-এর উচ্চপর্যায়ের এই অধিবেশন উদ্বোধন করেন মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট খুরেলসুখ উখানা। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের উপমহাসচিব আমিনা জে. মোহাম্মদসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here