
সংবাদ প্রতিবেদন : নিত্যবয়ান সংবাদদাতা, শেরপুর।
শেরপুর সদরের চাঞ্চল্যকর আইনুল হক (৫০) হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মো. মুরাদ মিয়াকে (৩০) আইনি হেফাজতে নিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। মঙ্গলবার (২৫শে আগস্ট, ২০২৬) রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহানীয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র্যাব-১৪-এর সিপিসি-১ জামালপুরের একটি দল। জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধের জেরে এই হত্যার অভিযোগ ওঠে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহত আইনুল হক এবং অভিযুক্ত মুরাদ মিয়া পরস্পর প্রতিবেশী এবং একই বংশের সদস্য। গত সোমবার (১৭ই আগস্ট, ২০২৬) সকাল সোয়া ১০টার দিকে আইনুল হকের বসতবাড়ির পেছনে মান্দা গাছে নেট জাল বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে আইনুল হককে মারাত্মকভাবে আঘাত করেন। পরবর্তীতে গলা টিপে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার।
ঘটনার দিনই নিহতের ভাই বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলার (নম্বর-৪২) পর থেকেই অভিযুক্তরা আইনি ব্যবস্থা এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। চাঞ্চল্যকর এই হত্যার ঘটনার পর থেকে র্যাব-১৪, জামালপুর ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মগোপনে থাকা মুরাদ মিয়ার সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করে র্যাবের আভিযানিক দল। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে কুড়িকাহানীয়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ইতোমধ্যে শেরপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত অন্যান্য অভিযুক্তদের আটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।