ইফতারের আবহে সংবাদকর্মীদের ঐক্য এবং ঠাকুরগাঁওয়ের আগামীর অগ্রযাত্রা

জসীমউদ্দীন ইতি ঠাকুরগাঁও।

 

পবিত্র মাহে রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি এবং একে অপরের প্রতি সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। সেই ত্যাগের মহিমা ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল চিত্র ফুটে উঠেছে গত ১৮ মার্চ ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব মিলনায়তনে।
জেলার পেশাদার সংবাদকর্মীদের বৃহত্তম সংগঠন ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিল কেবল একটি প্রথাগত অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল জেলার বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক এবং সুধীসমাজের এক অনন্য মিলনমেলা। রমজানের এই সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবের প্রতিটি সদস্যের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চায় এ জেলার সাংবাদিক সমাজ আজ এক সুতায় গাঁথা।

একটি জেলার দর্পণ হিসেবে প্রেসক্লাব সবসময়ই জনগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও জেলায় যখন নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনসহ মেগা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে, তখন সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে যেমন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে হয়, তেমনি উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতার অংশ। প্রেসক্লাবের এই আয়োজন সেই নৈতিকতা ও পেশাগত অঙ্গীকারকেই আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে উপস্থিত সকল সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু। তাঁর বক্তব্যে যে বিনয় ও ঐক্যের সুর ধ্বনিত হয়েছে, তা জেলার সংবাদকর্মীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। তিনি যখন সকল সাংবাদিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তখন সেটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ ছিল না, বরং তা ছিল জেলার প্রতিটি কলমযোদ্ধাকে এক প্লাটফর্মে আসার ডাক। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিঠু ভাইয়ের এই বলিষ্ঠ ও সময়োপযোগী নেতৃত্ব আগামীতে ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিকতাকে আরও সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহের মাঝে ‘সঠিক ও নির্ভুল তথ্য’ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভুয়া খবর ও অপসাংবাদিকতার ভিড়ে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব যেভাবে সত্যের ঝাণ্ডা ধরে রেখেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। ইফতারের এই পবিত্র পরিবেশে পেশাগত মানোন্নয়ন এবং জনস্বার্থে এক হয়ে কাজ করার যে বার্তা ধ্বনিত হয়েছে, তা যেন আমাদের প্রাত্যহিক লেখনীতেও প্রতিফলিত হয়।

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, ইফতারের এই আয়োজনে যে সম্প্রীতির বীজ বপন করা হলো, তা যেন সারা বছর অক্ষুণ্ণ থাকে। ঠাকুরগাঁওয়ের গণমাধ্যমকর্মীরা যেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু-এর নেতৃত্বে জেলার সম্ভাবনাগুলোকে জাতীয় ও বিশ্ব দরবারে সফলভাবে তুলে ধরতে পারেন। সাংবাদিকদের এই ভাতৃত্ববোধই হোক জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণের মূল চালিকাশক্তি।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ