ফেনী: দাগনভূঞায় দাদনার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন পরিবেশমন্ত্রী

সংবাদ প্রতিবেদন : মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।

ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের মিরেরপোল এলাকায় সেচ সংকট নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬ সকালে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ ‘দাদনার খাল’ পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। দেশব্যাপী প্রান্তিক জলাধার সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার মোট ৪২টি বেদখল হওয়া খাল উদ্ধারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

​জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০০ ফুট থেকে আশঙ্কাজনক হারে কমে ১৫০ থেকে ৩০০ ফুটে নেমে গেছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে গভীর নলকূপগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ায় কৃষিকাজে মারাত্মক সংকট দেখা দেয়। কৃষকদের এই দুর্ভোগ লাঘব এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরসহ মোট পাঁচটি সরকারি সংস্থা যৌথভাবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনার জন্য পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। খালগুলো খনন করে নদীর সঙ্গে যুক্ত করা না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা চূড়ান্তভাবে ফসল উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করবে। একই অনুষ্ঠানে বিএডিসির উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. নুর নবী উল্লেখ করেন, দেশের মাত্র সাত শতাংশ এলাকা নদী অববাহিকার অন্তর্ভুক্ত হলেও উজানের ঢল এই পথেই প্রবাহিত হয়। সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার অভাবেই প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা চরম সেচ সংকটের সম্মুখীন হন।

​ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম, দাগনভুঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন আতাতুর্ক সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ইতিমধ্যে ৪২টি খালের সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ দখলদারকে কোনো ধরনের ছাড় ছাড়াই উচ্ছেদ করা হবে।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ