বাগাতিপাড়ায় নানা অনিয়মে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ

ফজলুর রহমান,নিজস্ব সংবাদদাতাঃ

 

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আয়োজিত প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু হায়দার আলীর বিরুদ্ধে।

প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী একাধিক খামারি অভিযোগ করেছেন, পুরস্কারের অর্থ প্রদান, ডেকোরেশন ও খাবার খাতে বরাদ্দ অনুযায়ী ব্যয় করা হয়নি,শুধু তাই না নাটোর জেলার সর্বনিম্ন মানের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা যায়।

জেলার অনান্য উপজেলায় প্রদর্শনী মেলায় প্রতিটি স্টলগুলোতে দেখা গিয়েছে খামারের নাম সহ প্যানায় লিখিত ব্যানার, প্রতিটি উপজেলায় একই ডিজাইনের বিভিন্ন রঙের গেঞ্জি পরিহিত জনবল,স্টল গুলোতে দেখা গিয়েছে অনেক ধরনের ও মান সম্মত প্রানী,অপর দিকে বাগাতিপাড়াতেই ছিলো নাম মাত্র পশুপাখি।

গত ২৬ নভেম্বর বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়।

খামারিরা জানান, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীদের ছোট প্রাণী, বড় প্রাণী ও পাখি পালন—এই তিনটি ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হয়। তবে ঘোষিত পুরস্কারের অর্থ সঠিকভাবে প্রদান করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন খামারি বলেন, পুরস্কারের অর্থ বাবদ ৩ হাজার ৫০০ টাকার কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও হাতে দেওয়া হয়েছে কম টাকা।
অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, প্রদর্শনীর জন্য বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ডেকোরেশন করা হয়নি। একই সঙ্গে আগত অতিথি ও খামারিদের জন্য নির্ধারিত মান ও পরিমাণ অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করা হয়নি, যা বরাদ্দ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

রফিকুল ইসলাম চেরান, সোনালী বেগম, বদরুজ্জামান, লিটন, মিলন ও বকুলসহ কয়েকজন খামারি অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রেশনকৃত বড় খামারিদের যথাযথভাবে অবহিত না করে অফিস সংলগ্ন ও আশপাশের এলাকার ব্যক্তিদের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত খামারিদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

পেড়াবাড়িয়া মহল্লার খামারি লিটন ও মিলন জানান, তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও কম বয়সী বড় গরু নিয়ে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। গবাদিপশু পালন ও বিক্রিই তাদের প্রধান জীবিকা। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের বিজয়ীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
লিটনের বাবা বলেন,“অফিসের স্টাফরা কয়েকবার আমাদের বাড়িতে এসে আশ্বাস দিয়েছিল, গরুটি প্রদর্শনীতে আনলে প্রথম বা দ্বিতীয় পুরস্কার দেওয়া হবে। গরুটি বের করতে গিয়ে আমাদের টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়। পরে প্রদর্শনীতে নেওয়ার পর গরুটি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।”
উপজেলার কয়েকজন বড় খামারির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মানিক নামের এক খামারি বলেন,“আমার জানা মতে অধিকাংশ বড় খামারিই এই প্রদর্শনীর বিষয়ে আগে অবহিত ছিলেন না। যথাসময়ে জানানো হলে উন্নত মানের গবাদিপশু নিয়ে আমরা অংশগ্রহণ করতাম।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খামারি বলেন,“পুরো পুরস্কারের অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার পর কম টাকা দেওয়া হয়। ডেকোরেশন ও খাবার খাতেও বরাদ্দ অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

এদিকে বিষয়টি জানতে স্থানীয় এক সাংবাদিক গত ১০ ডিসেম্বর তথ্য অধিকার আইনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। তবে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু হায়দার আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি কোনো অনিয়ম করিনি। খাবার নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মাত্র।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ