
সংবাদ প্রতিবেদন : নিত্যবয়ান সংবাদদাতা, সোনাগাজী (ফেনী)।
ফেনীর সোনাগাজীতে কথিত পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক নারী ও এক পুরুষকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে আইনি হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭শে আগস্ট, ২০২৬) সকালে আদালতের মাধ্যমে ওই তিন অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে বুধবার (২৬শে আগস্ট, ২০২৬) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চরগণেশ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক অভিযুক্তরা হলেন—সোনাগাজী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে শাহ জালাল বাবর, সৈয়দ আহমদের ছেলে হাসান এবং আবু বক্কর ছিদ্দিকের স্ত্রী শুক্কুরের নেছা। এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যায় নির্যাতনের শিকার যুবক জয়নাল আবেদীন এরশাদ উল্যাহর বাবা আবু সফিয়ান বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় ১৪-১৫ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা (মামলা নং-২২) দায়ের করেন। মামলার নথিতে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (২৪শে আগস্ট, ২০২৬) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এরশাদ বন্ধুদের নিয়ে তাঁর নিকটাত্মীয় কামরুন নাহার রুনার বাড়িতে যান। রুনা স্থানীয় নুর আলমের স্ত্রী। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় অভিযুক্তরা রুনাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে এবং ওই বাড়ির উঠানে নিয়ে এরশাদসহ দুজনের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে দুজনকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে সোনাগাজী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের হালিম ডাক্তার পুলের গোড়া নামক স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতনের পাশাপাশি অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এমনকি অভিযুক্তরা রুনার সংসার ভাঙারও নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের পর খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৫শে আগস্ট, ২০২৬) বিকেল চারটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে। জানা যায়, ভুক্তভোগী রুনার চার সন্তান এবং এরশাদের দুই সন্তান রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এরই মধ্যে তিন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। জড়িত বাকি অভিযুক্তদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আটক অভিযুক্তদের বা তাদের আইনজীবীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।