
সংবাদ প্রতিবেদন : নিত্যবয়ান সংবাদদাতা, ফেনী।
পায়ুপথে প্লাস্টিকের হ্যান্ড শাওয়ার আটকে মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকিতে পড়া ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের প্রাণরক্ষা করেছেন ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশেষ সতর্কতা ও নিখুঁত কৌশল ব্যবহার করে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই বস্তুটি শরীর থেকে বের করে আনেন সার্জারি ও অ্যানেস্থেশিয়া টিমের সদস্যরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রায় চার দিন আগে কৌতূহলবশত ওই কিশোর নিজেই প্লাস্টিকের হ্যান্ড শাওয়ারটি নিজের পায়ুপথে প্রবেশ করায়। পরবর্তীতে বিষয়টি গোপন রাখলেও দীর্ঘক্ষণ পায়খানা বন্ধ থাকা এবং পেটে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হলে সে পরিবারকে বিষয়টি জানাতে বাধ্য হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জরুরি অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেওয়া হয় তাকে।
সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আদনান আহমেদ, ডা. সালাহউদ্দিন এবং ডা. মনির হোসেনের যৌথ নেতৃত্বে মেডিকেল টিমটি সফলভাবে শরীর থেকে বস্তুটি অপসারণ করে। এসময় অ্যানেস্থেশিয়া সেবায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ডা. আব্দুল্লাহ আব্বাসী দিপু ও ডা. খুরশিদ আলম। অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া ডা. আদনান আহমেদ জানান, চার দিন ধরে বস্তুটি ভেতরে আটকে থাকায় রোগীর মলাশয় বা অন্ত্র ছিদ্র হয়ে তীব্র সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসকদের তৎপরতায় বর্তমানে কিশোরটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত এবং চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর মানবদেহের যেকোনো স্পর্শকাতর অঙ্গে বাহ্যিক বস্তু প্রবেশ করানোর বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানান, এ জাতীয় আচরণ থেকে অন্ত্র ছিদ্র হওয়া, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও মারাত্মক সংক্রমণের মাধ্যমে রোগীর জীবনহানি ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মানসিক বিকাশ ও আচরণগত পরিবর্তন সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ভয় বা লজ্জা না পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।