দাগনভূঞা : স্বামীকে জিম্মি করে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ৬

0
34

সংবাদ প্রতিবেদন : নিত্যবয়ান সংবাদদাতা, দাগনভূঞা (ফেনী)।

​স্বামীকে জিম্মি করে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ফেনীর দাগনভূঞায় ছয়জন এজাহারভুক্ত অভিযুক্তকে আইনি হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার (৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এক বিশেষ অভিযানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাদের আটক করা হয়। ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে থানায় হাজির হয়ে এই জঘন্য ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

​অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৭/৯(৪)(খ)/৩০ তৎসহ দণ্ডবিধির ৩২৩/৩৭৯/৪২৭/৫০৬(২) ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। মামলা রুজুর পরপরই ফেনী জেলার পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের নির্দেশনায় এবং দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমানের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত প্রধান অভিযুক্তদের আটক করতে সক্ষম হন।

​পুলিশের হেফাজতে নেওয়া এজাহারভুক্ত ছয় অভিযুক্ত হলো—নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার কাদিরপুর (বাহার মেম্বারের পুরাতন বাড়ি) গ্রামের মোঃ সিরাজের ছেলে মোঃ রাশেদ প্রকাশ রাজ (১৯), যার বর্তমান ঠিকানা দাগনভূঞা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জগতপুর (ভূঞা বাড়ি); লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার পূর্ব চর কলাকোপা (সৈয়দ নগর) গ্রামের জাবেদ উদ্দিন ও নাছিমা আক্তারের ছেলে মোঃ জাকির হোসেন (২১), যার বর্তমান ঠিকানা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমান উল্যাহপুরের আফসারের বাড়ি; ফেনী সদর থানার ফাজিলপুর (কবির আহাম্মদ চেয়ারম্যান বাড়ি) গ্রামের মোঃ হারুন ও নুরুন্নাহারের ছেলে আব্দুল মান্নান মুন্না (২৯), যে বর্তমানে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফাজিলের ঘাট রোডের আমান উল্যাহপুরে কেয়ারটেকার কালাম কন্ট্রাক্টরের বাসায় বসবাস করে। এছাড়া সোনাগাজী থানার চর দরবেশ ইউনিয়নের উত্তর চর দরবেশ (বেলালের নতুন বাড়ি) গ্রামের বেলাল হোসেন ও জাহানারা বেগমের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৪), যার বর্তমান ঠিকানা দাগনভূঞা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জগতপুরে পরশ স্টোরের বিপরীত পাশে ফাতেমা মঞ্জিল; ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর (দার বক্স ওজি বাড়ি) গ্রামের কামাল উদ্দিন ও বিবি কুলসুমের ছেলে মোঃ শাহেদুল ইসলাম শাহিন (১৯), যে বর্তমানে জগতপুরে মামুনের ভাঙ্গারির দোকানে থাকে এবং দাগনভূঞা থানার উত্তর করিমপুর (ওসমান আলী কামলা বাড়ি) গ্রামের গোলাম মাওলা মাসুদ ও বিলকিস আরা বেগমের ছেলে মোঃ শাহরিয়ার নোমান (১৯), যার বর্তমান ঠিকানা জগতপুরের ফাজিলের ঘাট রোডস্থ মাওলা হোটেল।

​আটকের পর প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দাগনভূঞা থানা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি অব্যাহত থাকবে। এছাড়া উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত অপর অভিযুক্তদের আটকের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here