নুসরাত হত্যাকাণ্ড : ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ১০

0
14

সংবাদ প্রতিবেদন : নিত্যবয়ান সংবাদদাতা, ফেনী।

​ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় তৎকালীন অধ্যক্ষসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৪শে আগস্ট, ২০২৬) চাঞ্চল্যকর এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করলেও বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন নিহতের মা শিরিন আক্তার।

​বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ অভিযুক্তের মধ্যে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে চার আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর ১০ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নুরউদ্দিন, শাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা পপি। অন্যদিকে, কামরুন নাহার মনি, হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন ও মাকসুদ কাউন্সিলরকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

​রায় ঘোষণার পর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার জানান, এই রায়ের মধ্য দিয়ে ঘটনাটি যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা তাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুরো পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।

​আদালত প্রাঙ্গণে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, ঘটনার সময় মাদরাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তারা তা আদালতে উপস্থাপন করেননি। ব্যারিস্টার সৈয়দ এজাজ কবির ও ব্যারিস্টার ইমাম হোসেন তারেকের উপস্থিতিতে তারা ঘটনাটিকে কেবল আত্মহত্যার চেষ্টা বলে দাবি করেন। আসামিপক্ষ যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত জুবায়েরের পক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আঁখি, আশরাফুল ইসলাম ও আব্দুল মোতালেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here