
সংবাদ প্রতিবেদন : নিত্যবয়ান সংবাদদাতা, ফেনী।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ফেনী জেলায় সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৬২ শতাংশে। সোমবার (১০ আগস্ট, ২০২৬) প্রকাশিত এই আনুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যায়, জেলা জুড়ে মোট ১ হাজার ১৩৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।
উৎসবমুখর পরিবেশে ফলাফল জানার পর বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর ফেনী জেলার ১৮৯টি বিদ্যালয় থেকে মোট ১৪ হাজার ৯০০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সফলভাবে কৃতকার্য হয়েছে ১০ হাজার ৮২১ জন। জেলার ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী পাস করার মাধ্যমে শতভাগ সাফল্যের গৌরব অর্জন করেছে।
উপজেলাভিত্তিক ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে ফেনী সদর উপজেলা। এই উপজেলার ৬৮টি বিদ্যালয় থেকে সর্বাধিক ৬ হাজার ৬৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫ হাজার ১৪৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে পাসের হার ৭৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। এছাড়া সদর উপজেলা থেকে সর্বোচ্চ ৭৯২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং ৩টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের রেকর্ড গড়েছে। সদরের পরেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে ছাগলনাইয়া উপজেলা। সেখানকার ৩০টি বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার ৫৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১ হাজার ২০৯ জন পাস করেছে, যার হার ৭৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। এই উপজেলা থেকে ৯১ জন জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি ১টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে দাগনভূঞা উপজেলার ২৮টি স্কুল থেকে ২ হাজার ৫৯৫ জনের মধ্যে ১ হাজার ৮৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়ে ৭১ দশমিক ৬০ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে। এখান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩১ জন এবং ১টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের কৃতিত্ব দেখিয়েছে। ফুলগাজী উপজেলায় ২২টি বিদ্যালয়ের ১ হাজার ২৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৫ জন কৃতকার্য হয়েছে, যেখানে পাসের হার ৭০ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ এসেছে ৩৭টি।
সাফল্যের এই সার্বিক চিত্রের বিপরীতে বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে সোনাগাজী ও পরশুরাম উপজেলা। সোনাগাজী উপজেলার ২৪টি বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার ৭৮২ জন পরীক্ষায় বসে ১ হাজার ১৬৫ জন পাস করেছে, যেখানে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ জন। জেলার সবচেয়ে হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে পরশুরাম উপজেলায়। এখানকার ১৭টি বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার ৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র ৫৫৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার হার ৫৫ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩০ জন। সর্বশেষ এই দুই উপজেলার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শতভাগ পাসের তালিকায় স্থান অর্জন করতে পারেনি।