তেঁতুলিয়ায় কমিশন বাণিজ্য: ইউএনও’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

সংবাদ প্রতিবেদন : ডেস্ক, পঞ্চগড়।

​পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ তছরুপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আফরোজ শাহীন খসরু এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী মোঃ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ২৭ মার্চ, ২০২৬ শুক্রবার ঠিকাদারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বিলের লাখ লাখ টাকা বেআইনিভাবে তুলে নেওয়ার এই তথ্য প্রকাশ্যে এলে পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

​মেসার্স রবি ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোঃ রবিউল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি তেঁতুলিয়ায় বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৭৯ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করেছেন। চুক্তির অর্ধেক অর্থ তিনি আগেই পেয়েছেন এবং চলমান বিল হিসেবে তার পাওনা ছিল ৩০ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা তিনি হাতে পান। পরবর্তীতে বাকি ২০ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার জহিরুল ইসলামের নামে ইস্যু করা হয়। ভুক্তভোগী ঠিকাদারের অভিযোগ, তার কোনো স্বাক্ষর বা সম্মতি ছাড়াই ইউএনও এবং ওই সাবেক অফিস সহকারী মিলে ১৫ লাখ টাকা তুলে নেন। পরবর্তীতে তার ব্যাংক হিসাবে মাত্র তিন লাখ টাকা জমা করা হয়, কিন্তু বাকি ১২ লাখ টাকার কোনো হদিস এখন পর্যন্ত মেলেনি।

​উন্নয়নকাজের বিল প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং মানসিক হয়রানির শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন ওই ঠিকাদার। তার ভাষ্যমতে, নথিতে স্বাক্ষরের জন্য তাকে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তাকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত ছুটতে হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি নিজে অর্থ গ্রহণ না করে জহিরুলের মাধ্যমে এই কমিশন বা উৎকোচ বাণিজ্য পরিচালনা করেন ইউএনও।

​অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইউএনও মোঃ আফরোজ শাহীন খসরু বিষয়টিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যাচার বলে দাবি করেন। তবে ঘটনার দায় আংশিক স্বীকার করে নিয়েছেন সাবেক অফিস সহকারী জহিরুল। তিনি পুরো বিষয়টিকে একটি ‘ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ঠিকাদারের সাথে তার দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক এবং তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি মিটিয়ে নেবেন। এই কথা বলে তিনি সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করেন।

​এর আগে গত ১৩ মার্চ, ২০২৬ শুক্রবার রাতে তেঁতুলিয়ার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল ইসলামও ফেসবুক লাইভে এসে ইউএনওর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তার দাবি অনুযায়ী, ১০ থেকে ২০ শতাংশ উৎকোচ ছাড়া কোনো নথিতেই স্বাক্ষর করেন না আফরোজ শাহীন খসরু। বালুমহাল, পশুর হাট ও বাজার ইজারার পাশাপাশি এডিপি, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ, এলজিইডি এমনকি মসজিদ-কবরস্থানের বরাদ্দ থেকেও তিনি নিয়মিত অর্থ হাতিয়ে নেন। চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে জহিরুলকে পাঠিয়ে তার বাসা থেকে দুই ধাপে তিন লাখ ষাট হাজার টাকা আদায় করা হয়েছিল, যার সচিত্র ও ভিডিও প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এর পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া এবং অকারণে খারাপ আচরণের অভিযোগও আনা হয় এই প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

​এদিকে, সরকারি তহবিলের অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, দুর্নীতির প্রমাণ মিললে শুধুমাত্র বদলি কোনোভাবেই উপযুক্ত শাস্তি হতে পারে না; বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ