
রাসেল আহমেদ,খুলনা
সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও খুলনার কয়েকটি দপ্তরে সময়মতো অফিসে উপস্থিত হচ্ছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিশেষ করে কিছু দপ্তরে সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যেই সময়ানুবর্তিতার ঘাটতি দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পবিত্র রমজান মাসে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস সময় নির্ধারিত। পাশাপাশি অফিস শুরুর পর প্রথম ৪০ মিনিট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে অনেক দপ্তরেই এ নির্দেশনা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি দপ্তরে সকাল ৯টায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না। অনেকে এক থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে অফিসে আসেন। আবার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করার ঘটনাও ঘটছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নানা অজুহাত তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেনের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেছেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ। খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের সংস্থাপন শাখা থেকে পাঠানো এক কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৯ মার্চ সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় পরিদর্শন করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেনসহ সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হুদা ভূঁইয়া, উচ্চমান সহকারী নূরে আলম এবং হিসাবরক্ষকদের কক্ষ খালি পাওয়া যায়।
এ ছাড়া গত দুই সপ্তাহে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরও দুইবার ওই কার্যালয় পরিদর্শন করেও একই চিত্র দেখতে পান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দাপ্তরিক স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশনা থাকলেও তা যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদের কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে কক্ষে পাওয়া যায়নি।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেন যোগদানের পর থেকেই ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি মাঝে মধ্যে খুলনায় এসে রাত পর্যন্ত দাপ্তরিক কাজ শেষ করে আবার ঢাকায় ফিরে যান। সর্বশেষ কবে তিনি নিয়মিত অফিস করেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি দপ্তরের কর্মকর্তারাও।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক বনী আমিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অসুস্থতার কারণে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ছুটিতে আছেন বলে শুনেছেন। তবে কতদিনের ছুটি নিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেন বলেন, তার একটি হাড় ভেঙে যাওয়ায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে দপ্তরের কাজ বন্ধ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে খুলনার সব দপ্তরের চিত্র একই নয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অফিসে উপস্থিত হতে দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জেলা প্রশাসক সময়ানুবর্তিতার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি নিজে সময়মতো অফিসে আসেন এবং অধীনস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও নিয়মিত তদারকি করেন।
একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতেও। সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অফিস শুরুর আগেই এসে উপস্থিতি যাচাই করেন। নির্ধারিত সময়ে কাউকে না পেলে নোটিশ দেওয়া হয়।
খুলনা জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, জনগণের সেবা দ্রুত দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি নিজেও নিয়মিত সময়মতো অফিসে আসেন এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।