ফেনীতে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে একাধিক প্রার্থী

মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর, ফেনী জেলায় বিএনপির রাজনীতিতে এখন মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সংরক্ষিত নারী আসন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রাপ্ত তথ্যমতে, কাঙ্ক্ষিত এই পদটি নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেত্রীরা বর্তমানে রাজধানীতে অবস্থান করে দলীয় হাইকমান্ডের কাছে জোর তদবির চালাচ্ছেন। পাশাপাশি জেলার তিনটি আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমর্থন আদায়েও নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এমন একজন যোগ্য প্রতিনিধি খুঁজছেন, যিনি দলের প্রতি নিবেদিত থাকার পাশাপাশি জেলার নির্বাচিত তিন জনপ্রতিনিধির সাথে সমন্বয় করে স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ ও উৎকোচ গ্রহণের মতো অপকর্ম রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

​এই দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহেনা আক্তার শানু। বিগত নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও, তিনি দলের মনোনীত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষে ব্যাপকভাবে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি উঠান বৈঠক ও জনসভা আয়োজনের মাধ্যমে নারী ভোটারদের সুসংগঠিত করেন। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজধানী ঢাকা এবং ফেনীর রাজপথে কর্তৃত্ববাদী সরকার বিরোধী আন্দোলনে তার ধারাবাহিক উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মাঝে তাকে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে।

​আরেক আলোচিত প্রার্থী হলেন দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা আকবর। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনের স্ত্রী এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাইয়ের সহধর্মিণী। স্বামীর সাথে তিনিও দীর্ঘকাল কর্তৃত্ববাদী শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে স্বামী আত্মগোপনে বা কারাবন্দি থাকাকালীন তিনি অসীম সাহসিকতার সাথে দলীয় কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ নির্বাচনে দাগনভূঞা ও সোনাগাজী এলাকায় নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে এনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করতে তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। রাজপথে তার এই অসামান্য ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকে সংসদে দেখতে প্রবল আগ্রহী।

​এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর পাশাপাশি ফেনী জেলা মহিলা দলের সভাপতি জুলেখা আক্তার ডেইজি এবং মহিলা দলনেত্রী নুর তানজিলা রহমানও সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন। অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বিগত নির্বাচনে জেলার তিন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করলেও, বর্তমানে তিনি দলীয় রাজনীতিতে কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। বিগত দিনের নানা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো এবার নারী নেতৃত্বে নতুন মুখ খুঁজছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ