ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতি: নারী নেতৃত্বে তৃণমূলের আস্থা ও নাজমা আক্তার

জসীমউদ্দীন ইতি ঠাকুরগাঁও।

 

একটি জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করে না, বরং সেই উন্নয়নে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের হলেও, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগ্য ও সাহসী নারী নেতৃত্বের অভাব বারবার অনুভূত হয়েছে। এই শূন্যতা পূরণে বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে নামটি সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা আক্তার।

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন নাজমা আক্তারকে ঘিরে স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রত্যাশা কেবল আবেগতাড়িত নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক সংগ্রামের ইতিহাস। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে প্রতিকূল পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল, তাতে অনেক বাঘা বাঘা নেতা যখন আত্মগোপনে বা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তখন নাজমা আক্তারের মতো মাঠপর্যায়ের নেত্রীরা রাজপথে থেকে সংগঠনের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অসংখ্য মামলা ও হামলার মোকাবিলা করেও তিনি মাঠ ছাড়েননি—এটি তার রাজনৈতিক দৃঢ়তারই পরিচয় দেয়।

হরিপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে প্রশাসনিক কাজের গভীরে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি জানেন তৃণমূলের নারীদের সংকট কোথায়। বর্তমানে তিনি যেভাবে সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছেন, তা একজন জনমুখী নেতার প্রতিচ্ছবি। রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে তার যে ভাবনা, তা ঠাকুরগাঁওয়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আশার আলো।

রাজনীতিতে ‘পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি’ এখন একটি দুষ্প্রাপ্য বিষয়। অথচ স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নাজমা আক্তার তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সেই বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসনের মূল উদ্দেশ্যই হলো সেইসব নারীদের সংসদে পাঠানো, যারা সরাসরি ভোটের রাজনীতিতে আসার আগে তৃণমূলের ভিত্তি মজবুত করেছেন এবং যারা নারী সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলতে পারবেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন এবং নারীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এখন প্রয়োজন অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতৃত্ব। দলীয় হাইকমান্ড যদি তৃণমূলের এই স্পন্দন অনুভব করতে পারে এবং নাজমা আক্তারের মতো পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন করে, তবে তা কেবল একটি রাজনৈতিক দলকেই শক্তিশালী করবে না, বরং ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও পূর্ণ হবে।

একটি আধুনিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন ঠাকুরগাঁও গড়তে নাজমা আক্তারের মতো লড়াকু নেতৃত্বের অভিষেক এখন সময়ের দাবি।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ