সিদ্দিকুর রহমান শাহীন, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম)।
সাত বছর আগে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার পূর্বধনিরাম আবসনের নালার উপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়।
আবাসন যেতে নালাটির উপর ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৪ ফিট প্রস্ত ও ৪৫ ফিটের দৈর্ঘের সেতুটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় নির্মাণ করে। দুপারের লোকদের পারাপারের জন্য সেতুটি খুলে দেয়া হয় ২০১৮ সালে।
পারাপার শুরুর তিন মাসের মধ্যে ভেঙ্গে পড়ে সেতুটি। চালু হয় ড্রামের ভেলা। সেই থেকে দিনে দিনে নালা পারাপারে বাড়ছে প্রায় দুই হাজার মানুষের ভোগান্তি আর দূর্ঘটনা। আবাসনের নালার এপার- ওপারের লোকদের কথা, কেন তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পারাপারে?
উপজেলার পূর্বধনিরাম গ্রামের আবাসনের, নালার ওপারের নওশাদের স্ত্রী গৃহবধু লাইলি বেগম। তার এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে। ছেলেটি প্রতিবন্ধি। বয়স ১৭। প্রতিবন্ধি সন্তান কোলে নিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে ড্রামের ভেলায় পারাপার হচ্ছেন লাইলি বেগম।
ড্রামের ভেলায় পারাপারে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পথচারীসহ স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষাথীরা। এই আবাসনের নালার ওপারে পূর্বধনিরাম আবাসন প্রকল্পে বসবাস করেন ৯টি ব্যারাকে ৯০ টি পরিবারসহ প্রায় হাজারের বেশি লোকজন।
কুটিবাড়ী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সেলিনা ও সুমাইয়া জানায়, “ভেলায় করে স্কুলে যাওয়া কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝে মাঝে পড়ে গিয়ে বইপত্র ভিজে যায়। বন্যার সময় তো তারা স্কুল কলেজে যেতেই পারে না।
স্থানীয় ছলিমুদ্দিন ও শহিদুল জানান, “সেতুটি ভাঙার প্রায় ৭ বছর হয়ে গেল, কেউ নতুন করে বানানোর উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে ভেলায় পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কে রাখে কার খবর !"
স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা সরকার জানান, “ সেতুটির জন্য আবাসনের লোকজনসহ স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সেখানে নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য অনেক বার প্রকল্প বাসন্তবায়ন কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। কোন উদ্যোগ নেয়নি।'
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজউদ্দৌলা জানান, পূর্বধনিরাম আবাসনের নালার ওপর নির্মিত সেতুটি ওই সময় বন্যার পানিতে দুই প্রান্তের মাটি ধ্বসে পড়ে ভেঙে গেছে। বর্তমানে নকশা অনুযায়ী সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ কঠিন।
উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান জানান, “ দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রনালয় অধিদপ্তর থেকে সেখানে একটি সেতু নিমার্ণ করা হয়। সে কারনে রাস্তাটির আইডি প্রকৌশলীর অধীনে নয়। তবে উপজেলা সমন্বয় কমিটিতে সেতুটি নিয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।