আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট: সুযোগ হারালে দাগনভূঞাবাসীর ভোগান্তির হুঁশিয়ারি

নিজস্ব সংবাদদাতা:

বাংলাদেশের ৩২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকল্পে এনভায়রনম্যানটাল স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় প্রস্তাবিত অত্যাধুনিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের কাজ স্থানীয় বিরোধিতায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর ২০২৫ দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পৌর কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অবহিতকরণ সভায় এ তথ্য উঠে আসে। আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চলায় এবং স্থানীয়দের বাধার মুখে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন না হওয়ায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে এই জরুরি সভার আয়োজন করা হয়।

​সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট স্থাপনের জন্য দাগনভূঞা পৌর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম এবং বর্তমান পৌর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) একাধিকবার মাঠপর্যায়ে জমি পরিদর্শনে যান এবং উপযুক্ত জমি নির্বাচন করেন। কিন্তু স্থানীয় জনগণের প্রবল বাধা ও অসহযোগিতার কারণে প্রকল্পটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র দাগনভূঞার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের সম্মতিতে প্রকল্পের মেয়াদ বিশেষ ব্যবস্থায় বাড়ানো হয়েছে। তবে জনমত ও জমি সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে এই বৃহৎ বাজেট ও সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

​সভায় পৌর প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট বক্তারা জানান, কর্মস্থলের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে প্রশাসন এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। স্থানীয় জনগণের ভুল ধারণা ভাঙাতে পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রকৌশল বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্লান্টের কারিগরি ও পরিবেশগত দিকগুলো তুলে ধরেন। তারা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে নিশ্চিত করেন যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই প্লান্টের মাধ্যমে পরিবেশ বা জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির কোনো নজির বিশ্বে নেই। বরং অপরিকল্পিত বর্জ্য নিষ্কাশন ভবিষ্যতে দাগনভূঞাবাসীর জন্য ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনবে।

​প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে সভায় জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিজ জেলায় চাকরির সুযোগ না থাকলেও কর্মস্থলকে নিজেদের এলাকা মনে করে তারা কাজ করছেন। এলাকার মানুষের সুখে আনন্দিত হওয়া এবং দুঃখে ব্যথিত হওয়ার মানসিকতা থেকেই এই প্রকল্পের জন্য এত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম ও বর্তমান প্রশাসন ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এখনও আসেনি।

​বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকারি এই বৃহৎ বরাদ্দ ও সুযোগ যদি স্থানীয় বিরোধিতার কারণে ফেরত যায়, তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পৌরবাসীকে ভবিষ্যতে চরম বিপাকে পড়তে হবে। দলমত ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দাগনভূঞার আগামী প্রজন্মের বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপস্থিত সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সকল প্রকার মতভেদ ভুলে উন্নয়ন সহযোগী হওয়ার এবং সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ