ফেনীতে ভুয়া ডিবি ওসি সেজে প্রতারণা, আটক ৪

মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।

ফেনীতে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসারের ইনচার্জ (ওসি) পরিচয় দিয়ে হোয়াটসএপে প্রতারণার অভিযোগে এক চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ‘বৈষম্য বিরোধী মামলা’ থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ বিভিন্ন নামে এই চক্রটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। রবিবার (২ নভেম্বর, ২০২৫) এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ৮১টি মোবাইল সিম ও ৯টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।

​জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা একটি মোবাইল সিম ব্যবহার করে “ওসি ডিবি ফেনী” নামে একটি হোয়াটসএপ অ্যাকাউন্ট খোলে। তারা ওই অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল পিকচারে ফেনী ডিবির বর্তমান ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরার পুলিশি পোশাক পরিহিত ছবি এবং কভার পিকচারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সরকারি গাড়ির ছবি ব্যবহার করে। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া, চাকরি দেওয়া এবং অন্যান্য সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করতো।

​গত ১১ অক্টোবর বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মর্ম সিংহ ত্রিপুরার নজরে আসে। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহের পর, তিনি বাদী হয়ে ২ নভেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৬; যা বাংলাদেশ পেনাল কোডের ১৭০/১৭১/৪১৯/৪২০/৩৪ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ২২ ধারায় রুজু করা হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্ব ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানিমকে দেওয়া হয়েছে।

​ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় এবং ডিবি ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরার প্রত্যক্ষ তদারকিতে, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে। আটকরা হলেন— চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ঘর দুয়ারা গ্রামের মোঃ জয়নাল (৪০), সাতকানিয়া থানার ঢেমশা দক্ষিণ ওমর পালার চৌধুরী বাড়ির মোঃ ইমরান (২৬), ফেনী সদরের দক্ষিণ আবুপুরের মিয়াজী বাড়ির আরিফুল ইসলাম আরমান (১৮) এবং চট্টগ্রাম সিএমপির পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুরের মাহাবুবুর রহমান (৫৬)।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। তাদের হেফাজত থেকে জব্দকৃত মোবাইল ফোন যাচাই করে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফেনী ওসি ডিবির নাম ব্যবহার করে বৈষম্য বিরোধী মামলা থেকে অব্যাহতির বিষয়ে কথোপকথনের প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া মোবাইলে পুলিশ অফিসারদের ডাউনলোড করা ছবি এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নামের তালিকা ও মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়।

​পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা সরকারি নিয়োগ ও বিভিন্ন দপ্তরে কাজের কথা বলেও তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারণা করতো। তাদের নামে আগেও প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং তারা একটি বিশাল প্রতারক চক্র গড়ে তুলেছে। এ চক্রের অন্য সদস্যদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ