নড়াইলে শিশু শিক্ষার্থীকে ধ-র্ষ-ণ চেষ্টা,সেই প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলা

মো: রফিকুল ইসলাম,নড়াইল।

 

নড়াইল সদর উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম মাগুরা কালুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন৷ আর চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তার বাড়ি নড়াইল সদরের বোড়ামারা গ্রামে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়,নড়াইল সদর উপজেলার মাগুরা কালুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম অর্থের বিনিময়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে কোচিং করাতেন৷

চলতি মাসের ১৫ অক্টোবর কোচিং শেষে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নড়াইলের ২১ অক্টোবরের স্মারকের প্রস্তাব মোতাবেক ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা,২০১৮ অনুযায়ী তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রদান করা হলো। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে ছাত্রী শ্লীলতাহানির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য অভিযোগ করে বলেন,ঘটনা ১৫ অক্টোবর ঘটেছে,কিন্তু আমরা জেনেছি ১৮ তারিখ। স্কুলে আমাদের ছোটো বাচ্চাকে ভয়-ভীতি দেখানোর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। সবকিছু উপেক্ষা করে সামাজিক সম্মানহানিকে তুচ্ছ করে থানায় গিয়েছিলাম ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায়।

নড়াইল সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন,অভিযুক্ত শিক্ষক তরিকুলকে আমরা এখনও গ্রেফতার করতে পারিনি। তবে তাকে ধরতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য,চলতি মাসের ১৫ তারিখ বিকেলে নড়াইল সদরে মাগুরা কালুখালী সরকারি বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয় বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

পরে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলামকে একমাত্র অভিযুক্ত করে থানায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা করেন।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ