
রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা)।।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দ আব্দুল খালেকের আজ ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী।
মরহুম ডা. সৈয়দ আব্দুল খালেক ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ জুলাই নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ১১নং চিরাং ইউনিয়নের গোপালাশ্রম গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর পিতার নাম সৈয়দ আলাউদ্দিন এবং মাতা তব্বতের নেছা।
তিনি ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ অক্টোবর ৫৬ বছর বয়সে রাজধানী ঢাকার বেসরকারি ডেল্টা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
প্রয়াত ডা. সৈয়দ আব্দুল খালেক ১৯৬৩ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে খুলনায় চাকরিজীবন শুরু করলেও চাকরিতে মন বসাতে না পেরে নিজ জন্মভূমি কেন্দুয়ায় ফিরে এসে জনস্বার্থে ফ্রি চিকিৎসা শুরু করেন। তিনি সাজিউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি, ১১নং চিরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তৎকালীন কেন্দুয়া থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে তিনি ভারতে মহিষখলা ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা দল গঠনের আগেই মরহুম ডা. সৈয়দ আব্দুল খালেক সাবেক এম.সি.এ আব্দুল মজিদ তারা মিয়ার নেতৃত্বে কলমাকান্দা, দূর্গাপুর ও কেন্দুয়া থানার বিজয়পুর এলাকায় পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মুজিবনগর সরকারের নির্দেশে মহিষখলা ক্যাম্পে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকির জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয় যে কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন ডা. সৈয়দ আব্দুল খালেক।
মরহুমের বড় ছেলে নেত্রকোণার কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের চারবারের সভাপতি সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাব মুঠোফোনে বলেন, আমার বাবা জীবদ্দশায় তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।
আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে মসজিদ মাদ্রাসায় ওনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরিশেষে সকলের কাছে দোয়া চাই পরকালে তিনি যেন মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেন।